US Visa Pause: পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ ৭৫টি দেশকে ভিসা বন্ধ আমেরিকার, তালিকায় কি ভারতও?

Indiatonight.in


US Visa Pause: পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ ৭৫টি দেশকে ভিসা বন্ধ আমেরিকার, তালিকায় কি ভারতও?

‘America First’ নীতিতে বড় ধাক্কা বিশ্ব অভিবাসন ব্যবস্থায়

Indiatonight.in
কলকাতা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬


হাইলাইটস

  • ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির জেরে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত

  • তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, রাশিয়া, ইরান সহ একাধিক দেশ

  • অনির্দিষ্টকালের জন্য এই স্থগিতাদেশ, ঘোষণা ট্রাম্পের

  • ভারত আছে কি না, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

  • বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য


 আমেরিকা প্রথম, সবাই তার পরে

America First”—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই আরও একবার কড়া সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা। বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (Immigrant Visa) দেওয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা করল মার্কিন প্রশাসন।

এই তালিকায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ রয়েছে বলে খবর, যা দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বুধবার নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন,

“আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থ সবার আগে। যতদিন না সেই স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে, ততদিন আমরা কোনও আপস করব না।”


 কেন এই সিদ্ধান্ত? ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই ৭৫টি দেশের নাগরিকরা—

  • মার্কিন নাগরিকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছেন

  • সামাজিক সুযোগ-সুবিধায় ভাগ বসাচ্ছেন

  • দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করছেন

এই কারণেই অভিবাসন ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের অংশ হিসেবে এই ভিসা স্থগিতাদেশ।

হোয়াইট হাউজের এক আধিকারিক জানান,

“এটা কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়, এটা আমেরিকার নাগরিকদের পক্ষে।”

 


 স্টেট ডিপার্টমেন্টের সরকারি ঘোষণা

মার্কিন বিদেশ দফতর (US State Department) এই সিদ্ধান্তের কথা এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ পোস্ট করে নিশ্চিত করেছে।

তাদের বক্তব্য,

“৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হবে তখনই, যখন মার্কিন নাগরিকদের অধিকার পুরোপুরি সুরক্ষিত হবে।”

এই পোস্টের পরই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় জোর জল্পনা।


কবে থেকে কার্যকর হবে এই নিষেধাজ্ঞা?

সরকারিভাবে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
তবে ফক্স নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী,
👉 ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই এই ভিসা স্থগিতাদেশ কার্যকর হতে পারে।

অর্থাৎ—

  • নতুন ভিসা আবেদন বন্ধ

  • প্রক্রিয়াধীন আবেদন ঝুলে যাওয়ার সম্ভাবনা

  • দূতাবাসগুলিতে বাড়তে পারে চাপ ও বিভ্রান্তি


 কোন কোন দেশ রয়েছে এই তালিকায়?

মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে পাওয়া তালিকায় রয়েছে—

আফগানিস্তান, আলবানিয়া, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান,
ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান,
রাশিয়া, ইউক্রেন সংলগ্ন অঞ্চল,
নাইজেরিয়া, ঘানা, সেনেগাল,
ব্রাজিল, কলোম্বিয়া, কিউবা,
মিশর, ইথিওপিয়া, কেনিয়া,
থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া,
এবং আরও বহু দেশ।

👉 মোট সংখ্যা: ৭৫টি দেশ


 ভারত কি এই তালিকায় আছে?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

ভারত কি এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায়?

সরকারিভাবে ভারতের নাম এখনও তালিকায় নেই
তবে—

  • ভারতের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে

  • H-1B ও গ্রিন কার্ড নীতিতে কড়াকড়ির ইঙ্গিত

  • ভবিষ্যতে নতুন বিধিনিষেধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক বিষয়টি “পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করছে” বলে সূত্রের খবর।


 বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে—

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর ঘনিষ্ঠ মহলে উদ্বেগ তুঙ্গে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান মহম্মদ ইউনূস-এর সরকারও কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে।

কারণ—

  • প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই দুই দেশ থেকে আমেরিকায় পাড়ি দেন

  • রেমিট্যান্স ও উচ্চশিক্ষার উপর বড় প্রভাব পড়বে

  • পরিবারভিত্তিক অভিবাসন কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে


 সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে?

এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে—

  • গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের উপর

  • পরিবার পুনর্মিলন ভিসা (Family Visa)

  • স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা মানুষদের উপর

  • চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে

বিশেষ করে—

দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 


আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও রাষ্ট্রসংঘ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য,

“এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং বিশ্ব অভিবাসন নীতির পরিপন্থী।”

তবে ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়েছে—
👉 এই সিদ্ধান্ত থেকে তারা একচুলও সরবে না।


ট্রাম্প বনাম বিশ্ব—পুরনো পথে নতুন লড়াই

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ট্রাম্পের পুরনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি—

  • কঠোর অভিবাসন নীতি

  • বিদেশি নাগরিকদের উপর কড়া নজর

  • দেশীয় ভোটব্যাঙ্ককে বার্তা

২০২৬ সালের মার্কিন রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।


ভবিষ্যতে কি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হবে?

এই মুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—
কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই
কোনও দেশের জন্য আলাদা ছাড় নেই

তবে—

  • কূটনৈতিক চাপ

  • বাণিজ্যিক স্বার্থ

  • আন্তর্জাতিক সমঝোতা

এই তিনটি ফ্যাক্টরের উপর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।


উপসংহার—বিশ্বের জন্য কী বার্তা দিল আমেরিকা?

এই সিদ্ধান্ত একটাই বার্তা দিচ্ছে—

আমেরিকা এখন নিজের দিকেই তাকিয়ে।

বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত শুধু অভিবাসন নয়,
👉 বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে।

পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ বহু দেশের জন্য এটি বড় ধাক্কা।
ভারতের ক্ষেত্রে এখনই স্বস্তি থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

DOWNLOAD NOW




শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা—পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।


0 মন্তব্যসমূহ