Hindus murdered in Bangladesh: বাংলাদেশে জনবহুল বাজারে হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে খুন, মাথায় পরপর ৭টি গুলি, আতঙ্কে যশোরের মণিরামপুর

Indiatonight.in







Hindus murdered in Bangladesh: বাংলাদেশে জনবহুল বাজারে হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে খুন, মাথায় পরপর ৭টি গুলি, আতঙ্কে যশোরের মণিরামপুর

টানা ৩ সপ্তাহে পঞ্চম হিন্দু হত্যার অভিযোগ

কলকাতা | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬


বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন উঠে গেল। সোমবার বিকেলে যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার জনবহুল কপালিয়া বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হল এক হিন্দু যুবককে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা তাঁর মাথা লক্ষ্য করে পরপর ৭টি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

নিহতের নাম রানা প্রতাপ (৪৫)। তিনি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার আরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী। প্রকাশ্য দিবালোকে, জনসমাগমপূর্ণ বাজারে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক।




জনবহুল বাজারে প্রকাশ্য হামলা

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রানা প্রতাপ মণিরামপুর উপজেলার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কপালিয়া বাজার এলাকায় ছিলেন। সে সময় আচমকাই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে বাজার এলাকা গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে মাথা লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। কোনও রকম আত্মরক্ষার সুযোগ না পেয়েই রানা প্রতাপ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় মানুষজন তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়।


 আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ, ছুটোছুটি সাধারণ মানুষের

প্রকাশ্য বাজারে এই হত্যাকাণ্ডের পর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আতঙ্ক। গুলির শব্দ শুনে বাজারের দোকানদাররা তড়িঘড়ি করে দোকানের শাটার নামিয়ে দেন। ক্রেতা ও পথচারীরা প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন,

“আমরা বুঝে ওঠার আগেই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ হয়। মানুষজন চিৎকার করতে শুরু করে। বাজারের মধ্যে এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি।”


পুলিশি তৎপরতা ও প্রাথমিক তদন্ত

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মণিরামপুর থানার পুলিশ। এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মণিরামপুর থানার ওসি রাজিউল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,

“পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিহতের দেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

তবে হামলার কারণ কিংবা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।


 সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কপালিয়া বাজার এলাকায় থাকা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল কিনা এবং এর পিছনে কোনও পূর্বশত্রুতা, ব্যবসায়িক বিরোধ না কি সাম্প্রদায়িক কারণ রয়েছে।


 টানা হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ সংখ্যালঘু মহলে

এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, গত ৩ সপ্তাহে এটি পঞ্চমবার কোনও হিন্দু ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে খুন করার ঘটনা। তাঁদের অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে।

এক হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি বলেন,

“বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু দোষীরা ধরা পড়ছে না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”


 রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন ব্যর্থ।

অন্যদিকে শাসক পক্ষের তরফে বলা হয়েছে,

“অপরাধীদের কোনও ধর্ম হয় না। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে।


 পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

রানা প্রতাপের মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের দাবি, রানা প্রতাপ কোনও রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

নিহতের এক আত্মীয় বলেন,

“ও শুধু নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকত। কেন ওকে এভাবে খুন করা হল, আমরা বুঝতে পারছি না।”

 


 সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, খুন ও হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠছে বারবার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও বড় বিপদ।


আন্তর্জাতিক মহলের নজর

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও নজর পড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


 প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

যশোরের মণিরামপুরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলে দিল—
জনবহুল বাজারে, প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে এমন হামলা সম্ভব?
সংখ্যালঘু নাগরিকরা কতটা নিরাপদ?

পুলিশের তদন্তে আদৌ দ্রুত কোনও সাফল্য আসে কিনা, সেটাই এখন দেখার। তবে রানা প্রতাপের মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই উত্তর খুঁজছে যশোরের মণিরামপুর।


DOWNLOAD NOW













আরো জানতে নজর রাখুন


0 মন্তব্যসমূহ