নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের গাড়ি ভাঙচুরমগরাহাট কাণ্ডে রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের

Indiatonight.in


নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের গাড়ি ভাঙচুরমগরাহাট কাণ্ডে রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের

সুরক্ষা ব্যর্থতার অভিযোগ, ৬ জানুয়ারির মধ্যে জবাব চাইল কমিশন


দিল্লি, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬


হাইলাইটস

  • মগরাহাটে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক সি মুরুগানকে হেনস্থা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় রিপোর্ট তলব

  • রাজ্য পুলিশের ডিজিপি রাজীব কুমারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন

  • আগামী ৬ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ

  • পর্যবেক্ষকের নিরাপত্তায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ

  • ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষক সফরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে নিরাপত্তার নির্দেশ


মগরাহাটে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষককে হেনস্থা, কড়া অবস্থানে কমিশন

রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে এবার নিজেই নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়লেন নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক সি মুরুগানকে হেনস্থা এবং তাঁর সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি রাজীব কুমারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৬ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কী কারণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছে—সব কিছুই রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কী ঘটেছিল মগরাহাটে?

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর মগরাহাট-১, মগরাহাট-২ এবং কুলপি ব্লকের একাধিক SIR (Special Intensive Revision) ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পর্যবেক্ষক সি মুরুগান। ওই সময় হঠাৎই একটি উত্তেজিত জনতার ভিড় তাঁকে ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই বিক্ষোভকারী দলের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা ছিলেন। তাঁরা পর্যবেক্ষকের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বেরনোর রাস্তা আটকে দেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকের সরকারি গাড়ির বনেট ও কাচে ধাক্কা দেওয়া হয়, এমনকী একটি কাচ ভেঙে দেওয়া হয়


পুলিশি নিরাপত্তা ছিল কি না, উঠছে প্রশ্ন

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের তরফে ডিজিপিকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন পর্যবেক্ষকের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—

“মগরাহাট-১, মগরাহাট-২ এবং কুলপি ব্লকের SIR ক্যাম্পগুলিতে পর্যবেক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। এর ফলেই সরকারি কাজে বাধা, অযথা স্লোগানিং এবং গাড়ি ভাঙচুরের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে।”

পুলিশ মানবপ্রাচীর তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা যে যথেষ্ট ছিল না, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে কমিশন।


আগে থেকেই জানানো হয়েছিল সফরের কথা

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের দাবি, সি মুরুগানের সফরের কথা আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়নি, সেই প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়েছে ডিজিপির কাছে।

এই প্রসঙ্গে কমিশন কার্যত রাজ্য পুলিশের দিকে আঙুল তুলে জানায়—

“এই ঘটনাগুলি রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের গুরুতর গাফিলতির প্রতিফলন।”


কমিশনের কড়া নির্দেশ: ভবিষ্যতে আর নয় এমন ঘটনা

এই ঘটনার পর শুধু রিপোর্ট তলবেই থেমে থাকেনি নির্বাচন কমিশন। ভবিষ্যতের জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী—

  • কোনও নির্বাচনী তালিকা পর্যবেক্ষক বা SIR পর্যবেক্ষক সফরে গেলে

  • অবশ্যই একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে

  • পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হবে

  • যাতে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়

কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, SIR এবং অন্যান্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এই নির্দেশগুলি কঠোরভাবে মানতে হবে


রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে চাপ

এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল

তাঁদের বক্তব্য, যখন নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরাই নিরাপদ নন, তখন সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং কোনও বড় অঘটন ঘটেনি। তবে নির্বাচন কমিশনের চিঠি সামনে আসার পর বিষয়টি যে আরও গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।


SIR প্রক্রিয়া কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উল্লেখ্য, SIR বা Special Intensive Revision হল ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে—

  • ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়া

  • প্রকৃত ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা

  • মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম সংশোধন

এই কাজগুলি করা হয়। ফলে এই প্রক্রিয়ায় কোনও রকম বাধা বা হিংসা নির্বাচন ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছে কমিশন।


রিপোর্টে কী কী জানতে চাইছে কমিশন?

নির্বাচন কমিশনের তরফে ডিজিপির কাছে যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে, তাতে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে—

  1. ঘটনার দিন কতজন পুলিশ কর্মী মোতায়েন ছিলেন

  2. কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি

  3. বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে

  4. ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে সূত্রের খবর।


কমিশনের কড়া বার্তা রাজ্য প্রশাসনের উদ্দেশে

মগরাহাটের এই ঘটনা যে নির্বাচন কমিশন হালকাভাবে নিচ্ছে না, তা চিঠির ভাষাতেই স্পষ্ট। কমিশনের কড়া বার্তা—নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা কখনওই বরদাস্ত করা হবে না

৬ জানুয়ারির রিপোর্টের পর রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


DOWNLOAD NOW




















আরও আপডেটের জন্য নজর রাখুন


0 মন্তব্যসমূহ