Bank Robbery in Siliguri: ব্যাঙ্কের ভিতর গুলিবিদ্ধ ৫, নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক মেঝেতে পড়তেই ছিটকে এল গুলি

Indiatonight.in


Bank Robbery in Siliguri: ব্যাঙ্কের ভিতর গুলিবিদ্ধ ৫, নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক মেঝেতে পড়তেই ছিটকে এল গুলি

শিলিগুড়িতে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, জখম শিশু-সহ পাঁচ জন

শিলিগুড়ি | ৬ জানুয়ারি ২০২৬


 ঘটনার মুহূর্ত—এক বিকট শব্দে স্তব্ধ ব্যাঙ্ক চত্বর

মঙ্গলবার দুপুর। শিলিগুড়ির বিধাননগর এলাকায় অবস্থিত সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার শাখায় তখন রোজকার মতোই স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল। কেউ টাকা তুলতে ব্যস্ত, কেউ জমা দিচ্ছেন, কেউ আবার পাসবই আপডেট করাচ্ছেন। হঠাৎই মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে গেল।

একটি বিকট শব্দে কেঁপে উঠল গোটা ব্যাঙ্ক চত্বর। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। ধোঁয়ার গন্ধ, মানুষের চিৎকার, আর রক্তাক্ত দৃশ্য—সব মিলিয়ে ব্যাঙ্কের ভিতর তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।


 নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক পড়ে যাওয়াই কাল

প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, ব্যাঙ্কে কর্মরত এক নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক অসাবধানতাবশত মেঝেতে পড়ে যায়। সেই সময়েই বন্দুক থেকে আচমকা একটি গুলি বেরিয়ে আসে। গুলিটি মেঝেতে লাফিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আঘাত করে।

পুলিশ সূত্রে অনুমান, বন্দুকটির সেফটি লক ঠিকভাবে লাগানো ছিল না। ফলে মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রিগার সক্রিয় হয়ে গুলি বেরিয়ে যায়। এই একটি মুহূর্তের অসতর্কতাই ভয়াবহ দুর্ঘটনার রূপ নেয়।


 শিশু-সহ পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ

এই দুর্ঘটনায় শিশু-সহ মোট পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই জন মহিলা, দুই জন পুরুষ এবং একটি শিশু। প্রত্যেকেরই পায়ে গুলি লেগেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে একজন হলেন মহম্মদ নুরুল হক, যিনি ব্যাঙ্কের কাজে এসেছিলেন। আচমকা এই ঘটনায় তিনি গুরুতর জখম হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ব্যাঙ্ক থেকে বের করে আনা হয়।


মুহূর্তে আতঙ্ক, দৌড়ঝাঁপ ও চিৎকার

গুলির শব্দ হতেই ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা গ্রাহকরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে ভয়ে মেঝেতে বসে পড়েন, কেউ কেউ আবার ব্যাঙ্কের বাইরে ছুটে যান। শিশুদের কান্না, মহিলাদের চিৎকারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

ব্যাঙ্ক কর্মীরাও প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। কেউ ভাবছিলেন ডাকাতির চেষ্টা, কেউ আবার জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করেন। পুরো এলাকা কয়েক মিনিটের জন্য কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।


 স্থানীয়দের ছুটে আসা ও পুলিশে খবর

গুলির শব্দ শুনে ব্যাঙ্কের বাইরে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারাও ছুটে আসেন। দ্রুত খবর দেওয়া হয় বিধাননগর পুলিশ ফাঁড়িতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাঙ্ক চত্বর ঘিরে ফেলে।

পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ব্যাঙ্ক খালি করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুকটি সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়।


আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে স্থানান্তর

গুলিবিদ্ধ পাঁচ জনকে প্রথমে বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সকলেই চিকিৎসাধীন এবং কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। তবে শিশুটির দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।


চিকিৎসকের বক্তব্য

বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন,

“পাঁচ জনের শরীরেই গুলি লেগেছে। প্রত্যেকের পায়ে আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সবাইকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।”

চিকিৎসকদের মতে, ভাগ্য ভালো যে গুলি শরীরের কোনও গুরুত্বপূর্ণ অংশে লাগেনি।


পরিবারের কান্না ও প্রশ্ন

আহত মহম্মদ নুরুল হকের ভাই জাহিরুল হক বলেন,

“দাদা ব্যাঙ্কে গিয়েছিল। পরে ফোন আসে যে ওর গুলি লেগেছে। কীভাবে ব্যাঙ্কের ভিতরে গুলি চলে, সেটা আমরা এখনও বুঝতে পারছি না।”

পরিবারের অভিযোগ, ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও বক্তব্য

ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় জানান,

“প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক মাটিতে পড়ে যাওয়ার ফলেই গুলি চলে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পুলিশ নিরাপত্তারক্ষীর প্রশিক্ষণ, বন্দুকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যাঙ্কের সিকিউরিটি প্রোটোকল খতিয়ে দেখছে।


বড় প্রশ্ন—ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?

এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল ব্যাঙ্কের ভিতরে অস্ত্র বহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

  • বন্দুকের সেফটি লক ঠিক ছিল কি না

  • নিরাপত্তারক্ষীর প্রশিক্ষণ যথাযথ ছিল কি না

  • নিয়মিত অস্ত্র পরীক্ষা করা হয় কি না

এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ ও প্রশাসন।

শিলিগুড়ির মতো ব্যস্ত শহরের একটি ব্যাঙ্কে এমন দুর্ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারির দাবি উঠেছে।

শিলিগুড়ির সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের এই দুর্ঘটনা প্রমাণ করে দিল, এক মুহূর্তের অসতর্কতাই কীভাবে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ভাগ্য ভালো যে প্রাণহানি হয়নি। তবে ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব এখন প্রশাসনের কাছেই।











0 মন্তব্যসমূহ