Bangladesh Suspends Indian Visas: বাংলাদেশ ভারতীয়দের ভিসা বন্ধ করল: দুই দেশের সম্পর্কে তলানিতে টান, নেপথ্যে কি পশ্চিমবঙ্গের ভোট?
কলকাতা | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এই মুহূর্তে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময় যে প্রতিবেশী দেশকে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেই বাংলাদেশের সঙ্গেই এখন ভারতের কূটনৈতিক দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই উত্তেজনারই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ— ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটকসহ একাধিক ধরনের ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—
👉 ঠিক কী চলছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে?
👉 শুধুই কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন?
📄 কোন কোন ভিসা বন্ধ করল বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ সূত্রে খবর, ভারতীয়দের জন্য আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—
-
পর্যটক (Tourist) ভিসা
-
মেডিক্যাল ভিসার একাংশ
-
কনফারেন্স ও কালচারাল ভিসা
-
ব্যক্তিগত সফরের ভিসা
👉 শুধু চালু রয়েছে—
-
ব্যবসায়িক (Business) ভিসা
-
চাকরি বা কর্মসংস্থান (Employment) ভিসা
বাংলাদেশ মিশনের এক আধিকারিক টাইমস অব বাংলাদেশ-কে জানিয়েছেন,
“ডিসেম্বর ২০ তারিখ থেকেই নয়াদিল্লির হাই কমিশন থেকে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া কার্যত বন্ধ। উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত।”
📄 ভারতের কোথায় কোথায় বাংলাদেশ মিশন রয়েছে?
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের মোট ৬টি কূটনৈতিক মিশন রয়েছে—
-
নয়াদিল্লি – হাই কমিশন
-
কলকাতা – ডেপুটি হাই কমিশন
-
চেন্নাই – ডেপুটি হাই কমিশন
-
মুম্বই – ডেপুটি হাই কমিশন
-
আগরতলা – অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন
-
গুয়াহাটি – অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন
এই সব মিশন থেকেই ভিসা পরিষেবা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
📄 সম্পর্ক খারাপ হওয়ার শুরু কোথা থেকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসে।
সেই সময় বাংলাদেশে ঘটে যায় রাজনৈতিক অভ্যুত্থান। ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকার।
এরপর ক্ষমতায় আসে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এই পরিবর্তনের পর থেকেই—
-
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ কমতে থাকে
-
সীমান্ত ও নিরাপত্তা ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ে
-
ভারত-বিরোধী বয়ান বাংলাদেশে জোরদার হয়
📄 হিন্দু নিধনের অভিযোগে আগুনে ঘি
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন একের পর এক বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসে।
বিশেষ করে ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
এরপর—
-
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ
-
বজরং দল
সহ একাধিক সংগঠন কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায়।
বাংলাদেশ সরকারের দাবি,
“এই বিক্ষোভের জেরে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল।”
📄 ভারতও কি পাল্টা ভিসা কমিয়েছে?
কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশ একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ভারতও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে।
বিশেষ করে—
-
মেডিক্যাল ভিসা
-
ছাত্র ভিসা
এই পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশ “প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্ত” নেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
📄 জয়শঙ্করের ঢাকা সফরেও কেন বরফ গলেনি?
উত্তেজনার মধ্যেই বিএনপি চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়।
তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দিতে ঢাকায় যান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
তিনি—
-
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন
-
শোকবার্তা জানান
কিন্তু কূটনৈতিক মহলের মতে,
👉 এটি ছিল সৌজন্যমূলক সফর, রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মতো কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।
📄 ক্রিকেট থেকেও রাজনীতি বাদ গেল না
সম্পর্কের অবনতি পৌঁছয় খেলাধুলার ময়দানেও।
বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের প্রতিবাদে ভারতে দাবি ওঠে—
“বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর থেকে বাদ দেওয়া হোক।”
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝে—
-
বিসিসিআই মুস্তাফিজুরকে আইপিএল ছাড়তে বলে
-
এরপর বাংলাদেশ সরকার আইপিএল সম্প্রচার ব্যান করে
-
পাশাপাশি ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ার বার্তা দেয়
এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত নিম্নতম স্তরে পৌঁছেছে।
📄 পশ্চিমবঙ্গ ভোট কতটা ফ্যাক্টর?
এই পুরো পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন—
👉 এর নেপথ্যে কি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন?
বাংলাদেশের এক প্রাক্তন কূটনীতিকের স্পষ্ট বক্তব্য,
“বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভোট একত্রিত করতে অ্যান্টি-বাংলাদেশ ন্যারেটিভ ব্যবহার করছে।”
তাঁর মতে—
-
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিষয়টি ভোটের হাতিয়ার
-
সীমান্ত রাজনীতিকে সামনে এনে মেরুকরণ
-
তাই ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম
📄 ক্ষতি কার বেশি?
এই ভিসা যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে—
-
চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা বাংলাদেশি রোগীদের উপর
-
পর্যটন শিল্প
-
ব্যবসায়িক যোগাযোগ
-
সীমান্ত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসামের অর্থনীতিতে
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তবে রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের অঙ্কে বিষয়টি চাপা পড়ে যাচ্ছে।
📄 সামনে কী হতে পারে?
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে—
-
কূটনৈতিক সম্পর্ক ঠান্ডা
-
জনমানসে অবিশ্বাস
-
রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ
বিশ্লেষকদের মতে,
👉 পশ্চিমবঙ্গের ভোটের পরেই হয়তো বরফ গলানোর চেষ্টা হবে
👉 তবে তার আগে সম্পর্ক আরও তলানিতে যেতে পারে
এক কথায়,
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন শুধুই কূটনীতির বিষয় নয়—এটি রাজনীতি, ভোট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার এক জটিল সমীকরণ।
DOWNLOAD NOW
.webp)

0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news