Bangladesh Hindus: বাংলাদেশে একজোট হিন্দুরা একের পর এক খুনের প্রতিবাদে ইউনূসকে চরম হুঁশিয়ারি
ঢাকা, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
আতঙ্ক, ক্ষোভ আর প্রতিবাদের আগুন
বাংলাদেশে ফের উত্তাল পরিস্থিতি। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার রাস্তায় নামল সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। গত মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে খুন হয়েছেন ৬ জন হিন্দু বাংলাদেশি। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার গভীর অনুভূতি।
সোমবার গভীর রাতে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজার এলাকায় নৃশংসভাবে খুন করা হয় ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তীকে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ। শুধু হিন্দু সমাজ নয়, এইবার আন্দোলনে শামিল হয়েছেন ব্যবসায়ী মহলও।
মণি চক্রবর্তী হত্যা: নরসিংদীতে আতঙ্কের রাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হন মণি চক্রবর্তী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর গোটা চরসিন্দুর বাজার এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাতভর টহল দেয় পুলিশ, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এত কিছুর পরেও কেন থামছে না এই খুনের রাজনীতি?
ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ: “২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম”
মঙ্গলবার সকাল থেকেই চরসিন্দুর বাজারে জমায়েত হতে থাকেন শতাধিক ব্যবসায়ী। স্থানীয় বাজার সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। তাঁদের একটাই দাবি—
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, নিরাপত্তা না থাকলে ব্যবসা করা অসম্ভব। সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীরা এখন কার্যত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্বজনদের দাবি: ‘এটা ছিল পরিকল্পিত খুন’
মৃত মণি চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজেন্দ্র চোহরি বলেন,
“মণি খুবই জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন তাঁকে খুন করা হল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ও আত্মীয় প্রদীপ চন্দ্র বর্মনের দাবি আরও গুরুতর।
“এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত খুন। হামলাকারীরা কোনও কিছু লুট করেনি। শুধু খুন করেই পালিয়ে যায়। এটা নিছক ডাকাতি নয়।”
এই বক্তব্য থেকেই জোরালো হচ্ছে সেই তত্ত্ব—এগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
একের পর এক খুন: সংখ্যাই বলছে ভয়াবহতার কথা
পরিসংখ্যানই যেন ভয় ধরাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
-
৩ জানুয়ারি: খুন খোকন চন্দ্র দাস
-
২৪ ডিসেম্বর: গণপিটুনিতে মৃত্যু অমৃত মণ্ডলের
-
১৮ ডিসেম্বর: দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন, দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন
-
সোমবার: নরসিংদীতে মণি চক্রবর্তী
-
একই দিনে: যশোরে গুলি করে খুন হিন্দু সংবাদপত্র সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগী
মোট ১৮ দিনে ৬ জন, আর ৩৫ দিনে অন্তত ১১ জন হিন্দুর মৃত্যু—এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
যশোর থেকে রংপুর: রক্তাক্ত মানচিত্র
নরসিংদী শুধু নয়। সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু হত্যাকাণ্ডের খবর এসেছে—
-
যশোর
-
ময়মনসিংহ
-
রংপুর
-
ফরিদপুর
-
কুমিল্লা
-
শরীয়তপুর
-
রাজবাড়ী
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এই হিংসার ছায়া।
আন্দোলনে হিন্দু সংগঠনগুলি: ইউনূসকে সরাসরি হুঁশিয়ারি
এই পরিস্থিতিতে এবার সরব হয়েছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন। রাজধানী ঢাকা সহ একাধিক জেলায় বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সরাসরি বার্তা—
“সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”
এই আন্দোলন থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হচ্ছে।
ইউনূস সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলিতে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ধীর। অনেক ক্ষেত্রেই FIR নিতে দেরি, তদন্তে গাফিলতি এবং অভিযুক্তদের রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভারতের নজর
এই ঘটনাগুলি নিয়ে নজর রাখছে ভারত সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ধারাবাহিকভাবে উঠে আসছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ কথা: বাংলাদেশ কোন পথে?
একদিকে সরকার নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে, অন্যদিকে মাটির নীচে জমছে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি। প্রশ্ন একটাই—
বাংলাদেশ কি তার সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে?
নাকি এই খুনের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে?
উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত বাংলাদেশ জুড়ে একটাই আওয়াজ—
“আর নয়। এবার বিচার চাই।”
.webp)

0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news