Pakistan Airstrikes Afghanistan: বোমার শব্দে ভোর, আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হানা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বেই রাগ দ্বিগুণ?
📍Indiatonight.in | কলকাতা | 18 Oct 2025
ফের আফগানিস্তানে বোমা হামলা চালাল পাকিস্তান
তালিবান জানাল, পাকিস্তানই প্রথম আঘাত করেছে
ভাঙল ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি, সীমান্তে ফের উত্তেজনা
দোহা শান্তি বৈঠকের আগেই বিমানহানা
শনিবার ভোররাতে আচমকা আকাশজুড়ে বেজে উঠল যুদ্ধবিমানের গর্জন। পাকিস্তানি এয়ারফোর্স আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে টার্গেটেড হামলা চালায়। মুহূর্তে আগুনে পুড়ে যায় সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রাম। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘুম ভাঙতেই দেখেছেন আগুনে ঝলসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। কেউ বুঝে উঠতে পারেনি কী ঘটছে।
মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছিল। উভয়পক্ষই জানিয়েছিল, আপাতত গুলি বন্ধ থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি মানল না ইসলামাবাদ। তালিবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, “আমরাই প্রথম আক্রমণ করিনি। পাকিস্তানই শান্তিচুক্তি ভেঙে প্রথম বিমান হামলা চালায়।”
পাকিস্তানের হামলার মূল কেন্দ্র ছিল পাকতিকার আরগুন ও বারমাল জেলা। ডুরান্ড লাইনের খুব কাছেই অবস্থিত এই অঞ্চলটি। আফগান সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অন্তত চারটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ। হাসপাতাল ও উদ্ধারকর্মীরা সারারাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাকিস্তানের বিমানহানার পর থেকেই সীমান্তে ছড়িয়ে পড়েছে ভয় ও বিভ্রান্তি। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে, বহু পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই দোহায় পৌঁছেছিল পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল। তালিবানের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তে স্থায়ী শান্তি আনা। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই শুরু হয় বিমানহানা। ফলে আলোচনার টেবিল কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ। প্রথমে আফগান সেনা পাকিস্তানের কয়েকটি পোস্টে হামলা চালায়। তারপর থেকেই প্রতিশোধ নিতে শুরু করে ইসলামাবাদ। দু’পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শতাধিক প্রাণহানি হয়েছে। তালিবান বলছে, তারা ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করছে, তারা ২০০ জনেরও বেশি তালিবান যোদ্ধাকে মারতে সক্ষম হয়েছে।
এর একদিন আগেই পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা হয়। সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সেই হামলায় নিহত হন ৭ জন পাকিস্তানি সেনা, আহত ১৩। তালিবান গোষ্ঠী টিটিপি (Tehrik-i-Taliban Pakistan) ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ও ‘গুলবাহাদর’ ইউনিট এই অপারেশন চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে তালিবান সরকার গঠনের পর থেকেই সীমান্তে সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হয়েছে। পাকিস্তান একদিকে তালিবানের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়, অন্যদিকে ভারত-আফগান সম্পর্কের উষ্ণতা তাদের আরও ক্ষুব্ধ করছে। ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক এই আক্রমণকে “রাগের প্রতিক্রিয়া” বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের ঘনিষ্ঠতা কি পাকিস্তানকে আরও অস্থির করে তুলছে? আফগান সরকার ও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বৈঠক ইসলামাবাদে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, “তালিবানরা তো মারছেই, ভারত আরও মারবে বুঝতে পারছি।”
এখনও পর্যন্ত দুই দেশের তরফে নতুন কোনও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়নি। সীমান্তের সাধারণ মানুষ আবারও যুদ্ধের দুঃস্বপ্নে দিন কাটাচ্ছে। একজন স্থানীয় প্রবীণ বলেন, “আমরা শুধু চাই শান্তি। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারি না, রাতে ঘুমোতে পারি না।”
দু’দেশই যদি আলোচনার পথে ফেরে, তাহলে হয়তো রক্তপাত থামবে। কিন্তু আপাতত আকাশে বারুদের গন্ধ আর মাটিতে ভয়ের ছায়াই প্রবল।
দোহা বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে, সীমান্তে ফের আগুন জ্বলছে। পাকিস্তানের এই এয়ারস্ট্রাইক শুধু আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আরও জানতে নজর রাখুন


0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news