আবারও বাটি হাতে পাকিস্তান! IMF-এর বকুনি খেয়েও মিলল ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ

Indiatonight.in


আবারও বাটি হাতে পাকিস্তান! IMF-এর বকুনি খেয়েও মিলল ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) আবারও পাকিস্তানকে ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।

ভুল তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগে সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছিল IMF।

এবার ‘মানবিক সহানুভূতির’ ভিত্তিতে সহায়তা অনুমোদন।

পাকিস্তানের অর্থনীতি এখনও গভীর সঙ্কটে, চলতি হিসাব সামান্য উদ্বৃত্ত।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) আবারও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াল। সংস্থাটি যদিও সম্প্রতি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিল ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে, তবুও এবার ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কার্যক্রমে সম্মতি জানিয়ে ‘মানবিক সহানুভূতি’র উদাহরণ স্থাপন করেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ টুইট করে IMF-এর এই সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক আস্থা পুনরুদ্ধারের সোপান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এই সহায়তা আমাদের নতুন দিশা দেখাবে।”


কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রকাশিত প্রতিবেদনে সামনে আসে, পাকিস্তান IMF-এর কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের ভুল বাণিজ্য তথ্য জমা দিয়েছিল। বিষয়টি ফাঁস হতেই IMF ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং বলেছিল—এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক আস্থা নষ্ট করে।

পরে পাকিস্তান Geneva-based International Trade Centre (ITC)-কে দেওয়া তথ্যের ভুল স্বীকার করে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, কিছু আমদানি সংক্রান্ত তথ্য ‘অসম্পূর্ণ’ ছিল। তবে ভুল সংশোধনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও IMF পাকিস্তানকে তিরস্কার করে জানায়, ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম আর সহ্য করা হবে না।



বিতর্কের মধ্যেই IMF ও পাকিস্তানের মধ্যে Staff-Level Agreement (SLA) সম্পাদিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান পাবে—

Extended Fund Facility (EFF) থেকে ১ বিলিয়ন ডলার,

এবং Resilience and Sustainability Facility (RSF) থেকে অতিরিক্ত ২০০ মিলিয়ন ডলার।

তবে এই অর্থ ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো IMF নির্বাহী বোর্ডের হাতে। IMF প্রতিনিধি ইভা পেট্রোভা বলেন, “এই সহায়তা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।”


পাকিস্তানের অর্থনীতি গত এক দশক ধরে ক্রমাগত নিম্নগামী। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, এবং দুর্বল কর-ব্যবস্থার কারণে দেশটি বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েও পাকিস্তানের মুদ্রাস্ফীতি ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে, খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশছোঁয়া।

অন্যদিকে, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বর্তমানে মাত্র ৭.৪ বিলিয়ন ডলার, যা মাত্র দুই মাসের আমদানির খরচ মেটাতে সক্ষম। ফলে IMF-এর এই ঋণ ইসলামাবাদের জন্য কার্যত জীবনদায়ী।


সমালোচনার মাঝেও পাকিস্তান কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখাতে পেরেছে। IMF-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চলতি হিসাব উদ্বৃত্তে পৌঁছেছে।
এছাড়া—

রাজস্ব ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে,

মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে,

এবং বৈদেশিক রিজার্ভে সামান্য স্থিতি ফিরেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলি অস্থায়ী উন্নতি। যদি পাকিস্তান কাঠামোগত সংস্কার না আনে, তাহলে ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে।


চুক্তির অংশ হিসেবে IMF পাকিস্তানকে নতুন শর্ত দিয়েছে—

1. বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভর্তুকি কমাতে হবে।

2. কর আদায়ের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।

3. সরকারি ব্যয় সংযত করতে হবে।

এই পদক্ষেপগুলি যদিও IMF-এর কাছে ইতিবাচক, তবে পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের জন্য তা নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। ইতিমধ্যেই জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।



শেহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে—IMF-এর কাছে দেশের অর্থনীতি ‘বিকিয়ে’ দেওয়া হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মন্তব্য করেছেন, “IMF-এর প্রতিটি ডলার পাকিস্তানের স্বাধীনতার বিনিময়ে কেনা।”

এদিকে করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদে IMF-এর শর্তবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ, এই অর্থ সহায়তার ‘মূল্য’ তাঁরা দিচ্ছেন প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধে।


বিশ্লেষকদের মতে, IMF এবার পাকিস্তানের প্রতি ‘অর্থনৈতিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারণ সাম্প্রতিক বন্যা, কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি, এবং দারিদ্র্যের বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তানের মানবিক সংকট গভীরতর হয়েছে।

IMF-এর মুখপাত্র জানান, “পাকিস্তানের জনগণকে আরও দুঃখে ফেলতে আমরা চাই না। এই অর্থ সহায়তা মূলত খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পুনর্গঠন খাতে ব্যয় হবে।”


ভারতীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, পাকিস্তানের এই আর্থিক পুনরুদ্ধার ভারতের জন্য পরোক্ষভাবে লাভজনক হতে পারে। কারণ আঞ্চলিক স্থিতি ও বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হবে।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, “পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করে এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলে, তবেই অঞ্চলে শান্তি সম্ভব।”


বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি এখন পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে আছে। IMF-এর এই সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানকে নিজের ঘাটতি মেটানোর ব্যবস্থা করতেই হবে।

অর্থনীতিবিদ নওয়াজ তোরু বলেন, “ঋণ নয়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি বৃদ্ধিই হতে পারে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষার একমাত্র উপায়।”



                                                DOWNLOAD NOW











0 মন্তব্যসমূহ