Gujarat Ministers Resign: একসঙ্গে ইস্তফা গুজরাতের BJP সরকারের সব মন্ত্রীর! শুরু নতুন অধ্যায়?
Indiatonight.in | কলকাতা | 16 অক্টোবর 2025
বৃহস্পতিবার রাত গুজরাতের রাজনীতিতে ইতিহাস রচনা করল। একসঙ্গে গুজরাতের বিজেপি সরকারের সব মন্ত্রীই পদত্যাগ করলেন। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সবাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পরে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপাল দেবরথ আচার্যকে গিয়ে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র সঁপে দেন।
রাজ্য প্রশাসনের দপ্তরগুলিতে রাত থেকেই শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপের পর পুরো রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত এসেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে।
বিজেপির অন্দরে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল যে, গুজরাতের মন্ত্রিসভা ‘পুনর্গঠন’ প্রয়োজন।
দলীয় সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—পুরনো মুখদের পরিবর্তে তরুণ ও নবীন নেতৃত্বকে আনতে হবে।
অর্থাৎ, এটি কোনো ‘সংকটের প্রতিফলন’ নয়, বরং ‘কৌশলগত পুনর্গঠন’।
ভূপেন্দ্র পটেল এই প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি নিজে পদে বহাল থাকলেও, সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে সমস্ত মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়।
রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে গতি দিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রশাসন গড়ে তুলতে চান তিনি।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন—শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দিরে হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
উপস্থিত থাকতে পারেন অমিত শাহ ও বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।
গুজরাত বিজেপি সূত্রের দাবি, এটি হতে চলেছে ‘নতুন প্রজন্মের মন্ত্রিসভা’—যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণ উদ্যমের মিশ্রণ থাকবে।
বর্তমানে গুজরাত সরকারের মন্ত্রীসংখ্যা ছিল ১৬। এবার তা বাড়িয়ে ২৫-২৬ করা হতে পারে।
প্রায় ৭ থেকে ১০ জন পুরনো মন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন, তাঁদের জায়গায় আসবেন নতুন মুখ।
দলীয় সূত্র বলছে, এই প্রক্রিয়ায় জাতিগত ভারসাম্য ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
উত্তর গুজরাত, সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ অঞ্চল থেকে তরুণ নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।
২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই বড় পদক্ষেপ।
গুজরাত বিজেপি চাইছে—দলীয় স্তরে নতুন রক্ত ঢেলে ভোটের আগে জনভিত্তি আরও মজবুত করতে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যুব ভোটার ও প্রথমবার ভোটদাতাদের টানার জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি “মোদী-শাহ মডেল”-এরই সম্প্রসারণ—নিয়মিত রদবদল, যাতে সরকার সর্বদা সতেজ থাকে।
কংগ্রেস ও আপ নেতৃত্ব স্বাভাবিকভাবেই সুযোগ নিতে চাইছে।
গুজরাত কংগ্রেস সভাপতি শক্তিসিং গোহিল বলেছেন, “এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি। জনগণ এই নাটক বুঝে ফেলেছে।”
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির রাজ্য কো-অর্ডিনেটর বলেছেন, “গুজরাতে বিজেপি নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে রদবদলের নাটক করছে।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—বিজেপির এই পদক্ষেপ প্রতিপক্ষের চেয়ে সংগঠনকেই আরও মজবুত করবে।
এমন একযোগে মন্ত্রীদের পদত্যাগ গুজরাতের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
২০১৬ সালে আনন্দিবেন প্যাটেলের সময় একবার আংশিক রদবদল হয়েছিল, কিন্তু পুরো মন্ত্রিসভা একসঙ্গে ইস্তফা—এটি প্রথম।
এতে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও রাজ্য রাজনীতির প্রতিটি স্তরে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ আছে।
একই সঙ্গে বার্তা যাচ্ছে—দলে ব্যক্তি নয়, নীতি বড়।
বিজেপির একাংশ মনে করছে, বিগত কিছু মাসে প্রশাসনের সঙ্গে সংগঠনের সমন্বয় কমে গিয়েছিল।
নতুন দলীয় রদবদল সেই ফাঁক মেটাতে সাহায্য করবে।
প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে, এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুততার জন্যই এই পুনর্গঠন অপরিহার্য।
দলীয় সূত্রে দাবি, “নতুন মন্ত্রিসভা হবে কাজকেন্দ্রিক, প্রতিশ্রুতি পূরণের মন্ত্রিসভা।”
গুজরাত বিজেপি এখন এক নতুন যাত্রার শুরুতে।
ভূপেন্দ্র পটেল নেতৃত্বাধীন দলকে সামনে রেখে আগামী দুই বছর উন্নয়ন, বিনিয়োগ, শিল্পনীতি, ও সামাজিক সমন্বয়ের উপর জোর দিতে চলেছে।
রাজ্যজুড়ে নতুন মুখ, নতুন ভাবনা, নতুন উদ্যম—সব মিলিয়ে গুজরাতের রাজনীতি প্রবেশ করছে এক নতুন অধ্যায়ে।
অমিত শাহের ভাষায়, “গুজরাত আবারও হবে ভারতের উন্নয়নের ইঞ্জিন।”
এই রাতের ইস্তফা শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এটি বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতীক।
ক্ষমতায় থেকেও পুনর্গঠনের সাহস দেখানোই দলটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার মূল মন্ত্র।
গুজরাত থেকে শুরু, কিন্তু এর প্রতিধ্বনি শোনা যেতে পারে অন্য রাজ্যেও।


0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news