Gaza Ceasefire Deal: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তির হাওয়া, কিন্তু ভয় কাটেনি সাধারণ মানুষের। রইল ধ্বংসলীলার PHOTOS
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে আশার আলো গাজার আকাশে। বহু প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে হামাস এবং ইজরায়েলের মধ্যে। প্যালেস্তাইনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে চুক্তির পর ইজরায়েলি সেনারা গাজার কিছু অংশ থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেও নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষ।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে? যুদ্ধের ছায়া থেকে মুক্তি মিলবে তো গাজাবাসীর?
গাজার একাংশে মানুষ ধীরে ধীরে ঘরে ফিরছেন। কিন্তু অনেকের ঘর বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। রাস্তাজুড়ে ধ্বংস, ভাঙা ঘর, জ্বলে যাওয়া ভবন—যেন যুদ্ধের এক ভয়াবহ সাক্ষী।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা ঘরে ফিরছি, কিন্তু ঘর নেই। শুধু ইট-পাথরের স্তূপ।”
গাজার মানুষের মধ্যে ভয় এখনো কাটেনি। “ঘরপোড়া গোরু সিঁদূরে মেঘ দেখলে ডরায়”—এই প্রবাদ যেন গাজার আজকের বাস্তব চিত্র।
গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জায়দা বলেন, “আমার বাড়ি এখনও দাঁড়িয়ে আছে, এটা ভাগ্য। কিন্তু চারপাশে কিছুই নেই—সব ধ্বংস। আমার প্রতিবেশীদের ঘর, রাস্তা, দোকান—সব গুঁড়িয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুনছি যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু কেউ আমাদের নিশ্চিত করছে না। সত্যিই কি যুদ্ধ শেষ? নাকি আবারও গোলাগুলি শুরু হবে?”
এই অনিশ্চয়তাই যেন গাজার প্রতিটি মানুষের মুখে ফুটে উঠছে।
ইজরায়েল সরকার শুক্রবার সকালে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদন দেয়। সূত্রের খবর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত হিংসা বন্ধ হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আটক ইজরায়েলি যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে বন্দি বিনিময়ের প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে। হামাসের তরফে প্যালেস্তাইনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে ইজরায়েলও বন্দিদের ফিরিয়ে দেবে।
এই যুদ্ধবিরতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অবশেষে আলোচনায় বসে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইজরায়েল ধীরে ধীরে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং পরবর্তী ধাপে মানবিক সাহায্যের রাস্তা খুলে দেওয়া হবে।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু ইজরায়েলি সেনা ইতিমধ্যেই পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সরে গেছে। তবে গুলির শব্দ এখনও যেন কানে বাজে—যেন যুদ্ধের প্রতিধ্বনি আজও শেষ হয়নি।
গাজার কেন্দ্রীয় নুসেইরাত শিবির থেকে শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান। সেনারা তাদের অবস্থান ছেড়ে সীমান্তের দিকে সরে গেছে, কিন্তু শহরের ভিতরে এখনও ভয়ের ছায়া।
ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী রাস্তা থেকে ইজরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার পর, শত শত মানুষ আবার শহরের কেন্দ্রে ফিরে আসছেন।
উদ্ধারকর্মীরা এখন সেইসব জায়গায় প্রবেশ করতে পারছেন, যেখানে আগে যাওয়া সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজার আকাশে এখন শান্তির আকাঙ্ক্ষা, কিন্তু বাতাসে এখনও ধোঁয়া আর ক্ষতচিহ্নের গন্ধ।
যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও, গাজার হৃদয়ে এখনও যুদ্ধের দগদগে ক্ষত। শান্তি ফিরবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু আপাতত, এই ছোট্ট পদক্ষেপটাই গাজাবাসীর কাছে বেঁচে থাকার নতুন আশার প্রতীক।

.webp)
.webp)
.webp)
.webp)
.webp)

0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news