BSF Inspector Died: মালদা-বাংলাদেশ সীমান্তে গরুপাচারকারীদের সঙ্গে BSF-এর সংঘর্ষ, খুন ইন্সপেক্টরকে

Indiatonight.in


BSF Inspector Died: মালদা-বাংলাদেশ সীমান্তে গরুপাচারকারীদের সঙ্গে BSF-এর সংঘর্ষ, খুন ইন্সপেক্টরকে

Indiatonight.in | কলকাতা | 06 Oct 2025 | 


গরুপাচার রুখতে গিয়ে প্রাণ গেল বিএসএফ ইন্সপেক্টরের

মৃত অফিসারের নাম কপিল দেব সিং (৫৯)

অভিযানের সময় গরুপাচারকারীদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ

কোর্ট অফ ইনকোয়ারি গঠনের নির্দেশ বিএসএফের


মালদা-বাংলাদেশ সীমান্ত ফের উত্তপ্ত। গরুপাচার রুখতে গিয়ে প্রাণ দিতে হল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর এক ইন্সপেক্টরকে। মৃত অফিসারের নাম কপিল দেব সিং (৫৯)। শনিবার গভীর রাতে মালদার আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে আগ্রা ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ইন্সপেক্টর অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সীমান্ত লাগোয়া নদীপথ দিয়ে একদল পাচারকারী বাংলাদেশে গরু পাচার করার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে বিএসএফের টহলদারি দল সেখানে পৌঁছায়। মুহূর্তেই শুরু হয় সংঘর্ষ।


সূত্রের খবর অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বিএসএফের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টহলে বের হয়। সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশি পাচারকারীদের গতিবিধি নজরে পড়তেই সতর্ক হন অফিসাররা।
চোরাকারবারীরা নদী পার করে মোষ ও গরু নিয়ে যাচ্ছিল। বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রথমে সতর্কবাণী দেওয়া হয়। কিন্তু পাচারকারীরা পালিয়ে না গিয়ে উলটে পাথর, লাঠি এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে জওয়ানদের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।


চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিএসএফ জওয়ানরা আত্মরক্ষার্থে তাঁদের পাম্প-অ্যাকশন বন্দুক থেকে তিনটি অ-প্রাণঘাতী গুলি ছোড়ে। তবুও পাচারকারীরা থামেনি। একাধিক পাচারকারী নদীর ধারে দাঁড়িয়ে জওয়ানদের লক্ষ্য করে লাঠি ও গদা ছোড়ে।
এই আক্রমণের মধ্যেই ইন্সপেক্টর কপিল দেব সিং তাঁর দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা পাচারকারীদের তাড়া করতে করতে একটি জলাভূমিতে ঢুকে পড়েন। কিন্তু সেখানেই ঘটে দুর্ঘটনা।


জলাভূমির নরম কাদা ও অন্ধকারে পা পিছলে পড়ে যান কপিল দেব সিং। তাঁর সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে। তখনও তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস চলছিল বলে জানা যায়। দলের সদস্যরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গেই সীমান্তের নিকটবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখান থেকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।


বিএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একটি কোর্ট অফ ইনকোয়ারি-র নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সময় মানসম্মত প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা, জলাভূমির মতো বিপজ্জনক এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কিনা—তা তদন্তে দেখা হবে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে কোনও বড় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।


উত্তরপ্রদেশের আগ্রা জেলার বাসিন্দা কপিল দেব সিং-এর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তিনি থাকতেন।
পরিবারের এক আত্মীয় বলেন, “দেশের জন্য ও নিজের দায়িত্ব পালনে কখনও পিছিয়ে থাকেননি কপিলজি। আমরা গর্বিত, কিন্তু শোকে স্তব্ধ।”


ঘটনার পর সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলেন, “রাতের দিকে হামলার আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। নদীপথ দিয়ে গরুপাচার নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সীমান্তরক্ষীর মৃত্যুতে আমরা আতঙ্কিত।”
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, পাচার চক্রের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, গ্রামের সাধারণ মানুষও বিপদে পড়ছে।


মালদা জেলার এই অংশ দীর্ঘদিন ধরেই গরুপাচারের হটস্পট হিসেবে কুখ্যাত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারীরা নদীপথ ও জলাভূমিকে ব্যবহার করে পাচার চালায়।
প্রতি রাতে অন্তত কয়েক ডজন গরু বাংলাদেশের দিকে পাচার করা হয় বলে অভিযোগ। বিএসএফ বহুবার অভিযান চালিয়েও পাচারচক্র পুরোপুরি নির্মূল করতে পারেনি।
এই অঞ্চলে পাচারকারীরা প্রায়শই অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, নৌকা ও স্থানীয় গাইড ব্যবহার করে নিরাপত্তাবাহিনীর চোখে ধুলো দেয়।


বিএসএফের অ-প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, সীমান্তের এই নীতি অনেক সময় জওয়ানদের ঝুঁকির মুখে ফেলে।
এক বিএসএফ সূত্র জানায়, “আমরা অ-প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করি যাতে কোনো নিরপরাধ প্রাণহানি না ঘটে। কিন্তু পাচারকারীরা আজকাল আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র—সবকিছু নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এতে জওয়ানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।”


রবিবার মালদার বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় কপিল দেব সিং-এর প্রতি শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। পুরো বাহিনী স্যালুট জানায় তাঁদের সহকর্মীকে। পরে তাঁর মরদেহ বিমানপথে পাঠানো হয় আগ্রায়।
বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল এক বিবৃতিতে বলেন, “ইন্সপেক্টর কপিল দেব সিং আমাদের গর্ব। দেশের সীমান্ত রক্ষায় তাঁর আত্মবলিদান চিরস্মরণীয় থাকবে।”

সরকারের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার উপর উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা।

একজন দেশরক্ষীর মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, সীমান্তের অন্ধকার ব্যবসা এখনও থামেনি। গরুপাচার শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি। কপিল দেব সিং-এর আত্মত্যাগ হয়তো প্রশাসনকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে—কীভাবে সীমান্তকে আরও নিরাপদ করা যায়, যাতে আর কোনও জওয়ানকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।

                                     DOWNLOAD NOW





0 মন্তব্যসমূহ