🕉৪,০০০ বছরের পুরনো সনাতন সূর্য মন্দিরে মিলল —ইসলামীক দেশ কুয়েতের ফাইলাকায় অবিশ্বাস্য আবিষ্কার

Indiatonight.in



🕉৪,০০০ বছরের পুরনো সনাতন সূর্য মন্দিরে মিলল —ইসলামীক দেশ কুয়েতের ফাইলাকায় অবিশ্বাস্য আবিষ্কার


কুয়েতের ফাইলাকা দ্বীপে এক ঐতিহাসিক সন্ধান। কুয়েতি ও ডেনিশ গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় ৪,০০০ বছর পুরনো ব্রোঞ্জ যুগের একটি মন্দির, যা প্রাচীন দিলমুন সভ্যতার সময়কার বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই অভিযান পরিচালনা করছে কুয়েত ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর কালচার, আর্টস অ্যান্ড লেটারস (NCCAL) এবং ডেনমার্কের Moesgaard Museum-এর সহযোগী দল।


গবেষক দল জানিয়েছে, খননস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, যেগুলোর নির্মাণকাল দিলমুন যুগের। আশ্চর্যজনকভাবে, একটি মন্দিরের উপরেই আরেকটি নতুন কাঠামো নির্মিত হয়েছিল—যা প্রমাণ করে, এই অঞ্চল বহু শতাব্দী ধরে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল।

NCCAL-এর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক সুলতান আল-দুইসান বলেন,

> “দিলমুন সভ্যতার সঙ্গে কুয়েতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ফাইলাকা দ্বীপের এই মন্দিরগুলো প্রমাণ করছে, প্রাচীন কালে কুয়েত শুধু বাণিজ্যের নয়, ধর্মীয় জীবনেরও একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল।”


খনন কার্যক্রমে মিলেছে বহু মৃৎপাত্র, ধর্মীয় প্রতীক, এবং স্থাপত্যের অংশবিশেষ—যেগুলোর নকশা ও উপাদান থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় দিলমুন যুগের প্রভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্দিরগুলোতে সূর্য দেবতা বা প্রকৃতির পূজা হতো। অনেকে মনে করছেন, এগুলো ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলের সূর্য-উপাসনাকারী সংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন।



দিলমুন সভ্যতা ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলের এক স্বর্ণযুগ। বর্তমান কুয়েত, বাহরাইন ও পূর্ব সৌদি আরব জুড়ে বিস্তৃত এই সভ্যতা প্রাচীনকালে মেসোপটেমিয়া ও সিন্ধু উপত্যকার মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।
ইতিহাসবিদরা দিলমুনকে বলেন—

> “সভ্যতার সেতুবন্ধন—যেখানে পূর্ব ও পশ্চিমের প্রাচীন সংস্কৃতি মিলেমিশে গড়েছিল এক অনন্য ঐতিহ্য।”


গবেষকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা নিদর্শনগুলোর রাসায়নিক ও কার্বন ডেটিং বিশ্লেষণ চলছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে, এগুলোর বয়স আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে।
কুয়েতি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,

> “সমস্ত নিদর্শন সংরক্ষণ করে আন্তর্জাতিক মানের জাদুঘরে প্রদর্শন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কুয়েতের প্রত্নতত্ত্ব পর্যটনের নতুন অধ্যায়।”


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু কুয়েত নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের ইতিহাস পুনর্লিখনের পথ খুলে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসবিদ ড. ইউসুফ আল-সাবাহ বলেন,

> “ফাইলাকা দ্বীপে পাওয়া এই মন্দির প্রমাণ করে, প্রাচীন উপসাগর শুধু বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল না—এটি ছিল ধর্ম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানের মিলনক্ষেত্র।”


ফাইলাকা দ্বীপ কুয়েত উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ছোট হলেও ইতিহাসে ভরপুর এই দ্বীপে আগেও আবিষ্কৃত হয়েছে গ্রিক, হেলেনিস্টিক ও ইসলামী যুগের প্রত্নচিহ্ন।
এবারের দিলমুন মন্দির আবিষ্কার ফাইলাকাকে আবারও তুলেছে আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক মানচিত্রে।


NCCAL জানিয়েছে, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির কাছে ফাইলাকা দ্বীপকে “World Heritage Tentative List”-এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যদি অনুমোদন মেলে, তবে এটি হবে কুয়েতের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্য প্রত্নস্থল।



ডেনিশ দলের প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রফেসর হেনরিক লারসন বলেন,

> “দিলমুন সভ্যতা সম্পর্কে এত সুসংগঠিত প্রমাণ আগে কখনও একসঙ্গে পাওয়া যায়নি। এটি মানব ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”


ফাইলাকা দ্বীপে এই ৪,০০০ বছরের পুরনো মন্দির শুধু ইতিহাস নয়—মানব সভ্যতার প্রাচীন আচার, বিশ্বাস ও জীবনবোধের প্রতিচ্ছবি।
কুয়েতি প্রত্নতত্ত্ববিদদের ভাষায়—

> “আমরা শুধু প্রাচীন পাথর নয়, নিজেদের শিকড়ের সন্ধান পাচ্ছি।”

                                                DOWNLOAD NOW











 

 

0 মন্তব্যসমূহ