দার্জিলিং ধস লাইভ আপডেট: পাহাড়ে মৃত্যুর মিছিল, ধুয়ে গেল রাস্তা-ব্রিজ — মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রওনা দিলেন উত্তরবঙ্গে

Indiatonight.in



দার্জিলিং ধস লাইভ আপডেট: পাহাড়ে মৃত্যুর মিছিল, ধুয়ে গেল রাস্তা-ব্রিজ — মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রওনা দিলেন উত্তরবঙ্গে

📍দার্জিলিং | Indiatonight.in | ০৬ অক্টোবর, ২০২৫



নাগাড়ে চলা বৃষ্টি আর ধস — দার্জিলিং যেন আজ মৃত্যুপুরী। টানা তিন দিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ের মাটি সরে গিয়ে একের পর এক গ্রাম ভেসে যাচ্ছে। ভেঙে পড়ছে রাস্তা, ব্রিজ, এমনকি সরকারি ভবনও। সকাল থেকে উদ্ধারকাজে ব্যস্ত সেনা, এনডিআরএফ, রাজ্য পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩। আহতের সংখ্যা শতাধিক। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।


রবিবার গভীর রাতে দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ১৮ কিমি দূরের মিরিক ও গোকুলধাম এলাকায় মাটি সরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনটি বাড়ি ভেঙে পড়ে নদীতে মিশে যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতে এমন গর্জন শোনা যাচ্ছিল যেন পাহাড় ফেটে যাচ্ছে।
বৃষ্টি থামার কোনও লক্ষণ নেই। ফলে উদ্ধারকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে রওনা দিয়েছেন শিলিগুড়ির পথে। সূত্রের খবর, তিনি বিকেলের মধ্যেই দার্জিলিং ও কালিম্পং পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন।
নবান্নে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নম্বর: 0091-2214-3526 / 0091-2253-5185 এবং টোল ফ্রি: 91-86979-81070।


উত্তরবঙ্গে ধস ও বন্যার জেরে দুর্গতদের সহায়তার জন্য রাজভবনের পক্ষ থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন সেল খোলা হয়েছে।
যোগাযোগের নম্বর: 033-22001641
ইমেল: peaceroomrajbhavan@gmail.com
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস বলেছেন, “রাজ্যের জনগণের পাশে রাজভবন সবসময় আছে। দুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য সমস্ত সহায়তা করা হবে।”




দার্জিলিং, লোপচু, মিরিক, কালিম্পং—সব পর্যটন কেন্দ্রেই বহু মানুষ আটকে পড়েছেন। রাস্তাগুলি ভেঙে যাওয়ায় কোনও যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়।
পর্যটন দফতর জানিয়েছে, প্রায় ১২০০ জন পর্যটক এখনো বিভিন্ন হোটেলে আটকে রয়েছেন। তাদের জন্য খাবার, ওষুধ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।
এনডিআরএফ দল হেলিকপ্টারে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।


অবিরাম বৃষ্টিতে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা, তোর্সা ও মহানন্দা নদীগুলি। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
তিস্তার জলস্রোতে চঙতং ব্রিজ ধসে পড়েছে। জলপাইগুড়ি-সিকিম সংযোগ রাস্তাও বিচ্ছিন্ন।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতেও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত সুকিয়াপোখরি, কার্শিয়াং ও রঙটং-এর বহু গ্রাম এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।
টেলিফোন সংযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের সাহায্য এখনো অনেক জায়গায় পৌঁছায়নি।
গ্রামবাসীরা নিজেরাই নৌকা ও বাঁশের সেতু বানিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন।




ভূতত্ত্ববিদদের মতে, দার্জিলিংয়ের মাটি অতিমাত্রায় ভেজে যাওয়ায় আগামী ৪৮ ঘণ্টা আরও ধস নামার সম্ভাবনা প্রবল।
প্রফেসর অরুণাভ ঘোষ বলেন,

> “দার্জিলিং-এর পাহাড়ি অঞ্চল ইতিমধ্যেই ভারসাম্য হারিয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে ভূমি সরে যাওয়া অব্যাহত থাকবে। জরুরি ভিত্তিতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো উচিত।”


রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই দুর্যোগ ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
প্রতি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ₹২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া গৃহহীনদের জন্য শিলিগুড়ি, কালিম্পং ও কার্শিয়াং-এ অস্থায়ী আশ্রয় শিবির গড়ে তোলা হয়েছে।


পাহাড়ে এখন একটাই স্লোগান — “আমরা একসঙ্গে বাঁচব”।
স্থানীয় যুবকেরা নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দুর্গতদের জন্য চাল, ডাল, কম্বল ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে।
তবে প্রশাসনের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।




                                              DOWNLOAD NOW

























































0 মন্তব্যসমূহ