Anandapur Rape Case: ফের ধর্ষণের অভিযোগ কলকাতায়, সহপাঠীর হাতেই ধর্ষিতা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী!

Indiatonight.in


Anandapur Rape Case: ফের ধর্ষণের অভিযোগ কলকাতায়, সহপাঠীর হাতেই ধর্ষিতা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী!

Indiatonight.in| কলকাতা | 15 Oct 2025


দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডের আঁচ এখনও মুছতে পারেনি বাংলা, তার মধ্যেই ফের নৃশংস যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল রাজ্যের রাজধানী কলকাতায়। আনন্দপুরের এক বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর অভিযোগ—তাঁরই সহপাঠী তাঁকে ধর্ষণ করেছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা শহরে।


পুলিশ সূত্রে খবর, আনন্দপুর থানা এলাকার এক বহুতলের ফ্ল্যাটে একা থাকতেন ওই তরুণী। পরিবারের কাছ থেকে দূরে, পড়াশোনার জন্যই শহরে থাকতেন তিনি। রবিবার রাতে সহপাঠী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে। কথাবার্তার একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবক তাঁকে একটি ঠান্ডা পানীয় দেয়। অভিযোগ, সেই পানীয়তেই মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল মাদক জাতীয় পদার্থ। তরুণী সংজ্ঞা হারালে, তারই সুযোগ নেয় অভিযুক্ত।


সংজ্ঞা ফিরে আসার পর, ভয়ে ও লজ্জায় প্রথমে কিছুই বলতে পারেননি তরুণী। কিন্তু কিছু সময় পর সাহস জোগাড় করে নিজেই থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। আনন্দপুর থানার পুলিশ ঘটনাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে বলেই সূত্রের খবর।


অভিযুক্ত যুবকও ওই একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ঘটনার পর থেকেই সে আত্মগোপন করে। কিন্তু পুলিশের বিশেষ টিম প্রযুক্তিগত নজরদারিতে তাকে আনন্দপুরেরই এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়। বিচারক অভিযুক্তকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন।


এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন,

> “তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। তরুণীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




কয়েকদিন আগেই পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের বাইরে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসে। রাজ্যজুড়ে সেই ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে কলকাতার এই অভিযোগ তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—নারীদের জন্য আদৌ কি নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ?


ঘটনা ঘিরে রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের সরব বিরোধীরা।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেছেন,

> “যে রাজ্যে প্রতিদিন ধর্ষণের খবর আসে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী নীরব! মেয়েদের নিরাপত্তা এখন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ।”
সিপিএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ—রাজ্যের প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। কংগ্রেসও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


তৃণমূল মুখপাত্রের বক্তব্য,

> “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবে আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে।”
তাদের দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন রয়েছে এবং দোষীদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।


কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে এই ঘটনার প্রভাব ভয়াবহ। সহপাঠীদের অনেকেই বলেছেন—

> “যে বন্ধু এতদিন পাশে ছিল, সে এমন কাজ করতে পারে, ভাবতেই পারছি না।”
মহিলা সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দ্রুত বিচার চেয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় মোমবাতি মিছিলের আয়োজনও করা হচ্ছে।


আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ মামলায় ফরেনসিক প্রমাণ, সাক্ষ্য ও বয়ানের গুরুত্ব সর্বাধিক। সমাজকর্মীরা বলছেন—দ্রুত বিচার না হলে এমন অপরাধ থামানো সম্ভব নয়।
কলকাতার আনন্দপুর কাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল, নারীর সুরক্ষার প্রশ্নে এই শহরও আর নিরাপদ নয়।

🟥 শেষ কথা: দুর্গাপুর থেকে আনন্দপুর—এক রাজ্য, দুই ধর্ষণ। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় সমগ্র বাংলা।

                        DOWNLOAD NOW











0 মন্তব্যসমূহ