Manikchak, Maldah: মানিকচক: পাট বোঝাই নৌকা তলিয়ে গেল, স্কুল পড়ুয়াদের নৌকায় না তোলার অভিযোগে তীব্র হাহাকার

Indiatonight.in



Manikchak, Maldah: মানিকচক: পাট বোঝাই নৌকা তলিয়ে গেল, স্কুল পড়ুয়াদের নৌকায় না তোলার অভিযোগে তীব্র হাহাকার


মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের ভুতনি থানার অন্তর্গত পুলিনটলা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল শনিবার দুপুরে। পাট বোঝাই একটি বড় নৌকা হঠাৎ করেই প্লাবিত জলে তলিয়ে যায়। নৌকায় থাকা মাঝি দিলীপ চৌধুরী এবং পাট ব্যবসায়ী উত্তম মন্ডল প্রাণে বেঁচে গেলেও গোটা নৌকাটি অল্প সময়ের মধ্যেই তলিয়ে যায় নদীগর্ভে।


গত তিনদিনের টানা বর্ষণে ভুতনি এলাকার বাঁধ ভেঙে যায়। ভাঙা বাঁধ দিয়ে প্রবল গতিতে জল ঢুকে প্লাবিত হয়ে পড়ে পুরো গ্রামাঞ্চল। এই পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি পাটের মত কৃষিজাত দ্রব্যও নৌকায় করে এদিক-ওদিক পাঠানো হচ্ছিল।


শনিবার সকালে মানিকচকের মথুরাপুরে পাট নিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী উত্তম মন্ডল। মাঝি দিলীপ চৌধুরীর সঙ্গে নৌকাটি যখন পুলিনটলা এলাকায় পৌঁছয়, তখনই প্রবল স্রোতে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে তলিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নৌকায় প্রচুর পাট বোঝাই ছিল, সেই ভারে নৌকা দুলতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়।


জলকষ্টের মধ্যেও প্রাণে বেঁচে যান নৌকার মাঝি ও মালিক। তাঁরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে গোটা পাটের বোঝা, যা প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার সমান, সম্পূর্ণ ভেসে যায়। এর ফলে ক্ষতির পরিমাণও বিরাট বলে জানা গেছে।


ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিনটলা এবং ভুতনি গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। গ্রামবাসী নদীর ধারে ভিড় জমাতে থাকেন। ক্ষতির অঙ্ক শুনে সকলে শোকাহত হলেও, একইসঙ্গে আতঙ্কও ছড়ায় যে এই ভাঙা বাঁধের জলে আরো
 এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


অন্যদিকে, দক্ষিণ চন্ডিপুর এলাকার স্কুল পড়ুয়াদের অভিযোগ, মাঝিরা তাঁদের নৌকায় উঠতে দিচ্ছেন না। বহু পড়ুয়া প্রতিদিন স্কুলে যেতে নদী পারাপারের জন্য নৌকার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক প্লাবন পরিস্থিতি এবং সরকারি তদারকির অভাবে তাঁদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।


স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নামে নৌকা চালু হলেও সেগুলি যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বরং সরকারি নৌকার নামে টাকা তোলা হলেও সেই সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের নিরাপত্তা অবজ্ঞা করে মাঝিরা অন্যত্র ভাড়ায় নৌকা চালাচ্ছেন।


পড়ুয়াদের যাতায়াত বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকেরা। তাঁরা বলছেন, "আমাদের সন্তানদের স্কুলে যেতে হলে নৌকা দরকার। অথচ সরকারি প্রকল্পে যে নৌকার ব্যবস্থা হওয়ার কথা, তা কেবল কাগজে-কলমে আছে। বাস্তবে পড়ুয়াদের জীবন বিপন্ন করে মাঝিরা ব্যবসা করছেন।"


পুরো ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখনও পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের তরফে সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নৌকা ডুবির ঘটনায় তদন্ত হবে কিনা, বা শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে কিনা – তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


একদিকে পাট ব্যবসায়ীর বিরাট ক্ষতি, অন্যদিকে পড়ুয়াদের স্কুলে না যেতে পারা – দুই ঘটনাই গ্রামীণ জীবনে তীব্র হাহাকার তৈরি করেছে। প্লাবিত ভুতনি আজ অসহায়। গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত বাঁধ সংস্কার, সরকারি নৌকার সঠিক ব্যবহার এবং বিকল্প পরিবহণ চালু না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।




                                                        DOWNLOAD NOW












                           আরও জানতে নজর রাখুন









0 মন্তব্যসমূহ