Ganga Flood: হিমবাহ গলে নয়, ভূগর্ভস্থ জলেই বইছে প্রবাহ —
ITI রুরকির গবেষণায় চমকে দেওয়া তথ্য, এনজিটির হস্তক্ষেপে নতুন দিশা
ভারতের আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক জীবনের শিরা-উপশিরা জুড়ে প্রবাহিত গঙ্গা নদীকে নিয়ে নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এতদিন ধরে সাধারণ ধারণা ছিল—হিমবাহের বরফ গলেই গঙ্গার মূল প্রবাহ গ্রীষ্মে বজায় থাকে। কিন্তু সম্প্রতি **আইআইটি রুরকি**র এক গবেষণা সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, গ্রীষ্মকালে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে পটনা পর্যন্ত গঙ্গার জল আসছে মূলত ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে, হিমবাহ নয়।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই **ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)** স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করেছে। ২০ অগাস্টে বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে বেঞ্চ এই বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রক, জলসম্পদ দফতর, ন্যাশনাল ক্লিন গঙ্গা মিশনসহ একাধিক সংস্থাকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
আইআইটি রুরকির গবেষণায় দেখা গেছে—
* গ্রীষ্মকালে গঙ্গার জলের প্রবাহে হিমবাহের অবদান **নগণ্য**।
* ভূগর্ভস্থ জল নদীর প্রবাহকে প্রায় **১২০% বাড়িয়ে দেয়**।
* নদীর মোট জলের মধ্যে প্রায় **৫৮% গ্রীষ্মে বাষ্পীভবনে নষ্ট হয়ে যায়**।
এই গবেষণা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত **Hydrological Processes Journal**-এ প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক অভয়ানন্দ সিং মৌর্যের নেতৃত্বে গবেষক দল গঙ্গা এবং এর উপনদীর আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেন।
১ অগাস্ট ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত রিপোর্টের পরই এনজিটি বিষয়টি নেয়। এনজিটি বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে—
* পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক
* জলসম্পদ বিভাগ
* ন্যাশনাল ক্লিন গঙ্গা মিশন
* সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডওয়াটার বোর্ড
—এই সংস্থাগুলি ৩ নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে **১০ নভেম্বর**।
দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হয়েছে, গ্রীষ্মকালে হিমবাহের বরফ গলেই গঙ্গা জীবিত থাকে। কিন্তু নতুন তথ্য বলছে—
* হিমালয় থেকে সমভূমিতে নামার পর হিমবাহের জল প্রায় নেই বললেই চলে।
* নদীর টিকে থাকার মূল শক্তি ভূগর্ভস্থ জল।
* বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য **ভারতের জলনীতি পাল্টে দিতে পারে**।
আইআইটি রুরকির গবেষণা অনুসারে—
* ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে জলের যোগান গঙ্গাকে জীবিত রাখছে।
* উত্তর ভারতের সমভূমিতে হ্যান্ড পাম্প ও টিউবওয়েল থেকেও নিয়মিত জল পাওয়া যায়।
* গত দুই দশকের তথ্য দেখায়—মধ্য গঙ্গা অববাহিকায় ভূগর্ভস্থ জলের স্তর **স্থিতিশীল** রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে—
* গ্রীষ্মে গঙ্গার জলের **৫৮% বাষ্পীভবনে হারিয়ে যায়**।
* এতে নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
* এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দূষণ, সেচে অতিরিক্ত জল ব্যবহার, ব্যারাজে জল আটকে রাখা।
গবেষকরা জানিয়েছেন—গঙ্গা শুকিয়ে যাচ্ছে শুধু ভূগর্ভস্থ জলের ঘাটতির কারণে নয়। আসল কারণগুলো হল:
* অতিরিক্ত জল উত্তোলন।
* উপনদীগুলির প্রতি অবহেলা।
* ব্যারাজে জল আটকানো।
* শহরের বর্জ্য ফেলার ফলে জলের গুণমান হ্রাস।
গঙ্গা সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্র সরকার **নমামি গঙ্গে মিশন** চালু করেছে।
* ২০২৬ সালের মধ্যে **৭০০০ এমএলডি পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার** তৈরির লক্ষ্য।
* নদীর তীরে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ।
* জলাভূমি ও উপনদীগুলির পুনর্জন্মের উপর জোর।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পে ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণের উপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
গঙ্গা শুধু একটি নদী নয়—
* উত্তর ভারতের কোটি কোটি মানুষের **পানীয় জলের উৎস**।
* কৃষিক্ষেত্রে সেচের প্রধান ভরসা।
* হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে পবিত্রতার প্রতীক।
* পর্যটন ও নদীভিত্তিক পরিবহণের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
তাই গঙ্গা রক্ষার প্রশ্ন **দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত**।
গঙ্গাকে বাঁচাতে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন—
1. ব্যারাজ থেকে পর্যাপ্ত জল ছাড়া।
2. উপনদীগুলির পুনর্জন্ম ঘটানো।
3. ভূগর্ভস্থ জল পুনরুদ্ধার।
4. জলাভূমি সংরক্ষণ।
5. ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন আইন।
গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে হিমবাহ দ্রুত গলছে।
* অনেকেই ভেবেছিলেন এতে গঙ্গার জল বাড়বে।
* কিন্তু গবেষণা বলছে, সমভূমিতে পৌঁছতে পৌঁছতে হিমবাহের জল তেমন কাজে লাগছে না।
* বরং জলবায়ু পরিবর্তন বাষ্পীভবন বাড়িয়ে নদীকে শুকিয়ে দিচ্ছে।
যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়—
* উত্তর ভারতের পানীয় জলের সংকট বাড়বে।
* কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
* গঙ্গার সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।
সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে—
* জল অপচয় কমানো।
* বর্জ্য ফেলার আগে শোধন করা।
* বৃক্ষরোপণ ও জলাধার সংরক্ষণ।
* নদীতীরবর্তী গ্রামে সচেতনতা বাড়ানো।
এই গবেষণা প্রমাণ করেছে—
* হিমবাহ নয়, ভূগর্ভস্থ জলই গঙ্গার আসল প্রাণ।
* তাই ভারতের জলনীতি নতুনভাবে ভাবতে হবে।
* **গ্রাউন্ডওয়াটার ম্যানেজমেন্ট**কে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে গঙ্গা বিপন্ন হয়ে পড়বে।
গঙ্গা শুধু একটি নদী নয়—ভারতের **অস্তিত্ব, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির প্রতীক**।
আইআইটি রুরকির গবেষণা দেখিয়ে দিয়েছে, গঙ্গাকে বাঁচাতে হিমবাহ নয়, ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণই প্রধান চাবিকাঠি। এনজিটির হস্তক্ষেপ এই বিষয়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
👉 আগামী ১০ নভেম্বরের শুনানি থেকে কী নতুন কৌশল বের হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। কারণ গঙ্গা বাঁচানো মানেই ভারতের ভবিষ্যৎ বাঁচানো।
আরও জানতে নজর রাখুন





0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news