Donald Trump Win The Nobel prize: "ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত? ভারত কী বলল"
🖋️ প্রতিবেদন: indiatonight.in | প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৫ |
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি জুড়ে নানা বিতর্ক থাকলেও সম্প্রতি আবার তাঁর নাম সামনে এসেছে এক নতুন দাবির প্রেক্ষিতে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই দাবিকে ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় দফার মেয়াদে গড়ে প্রতি মাসে একাধিক শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছেন।" তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, এত সাফল্যের পর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়েছে।
লিভিট যে দেশগুলোর নাম উল্লেখ করেন, তা যথাক্রমে—
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া
ইজরায়েল ও ইরান
রুয়ান্ডা ও কঙ্গো
ভারত ও পাকিস্তান
সার্বিয়া ও কসোভো
মিশর ও ইথিওপিয়া
এই সমস্ত ক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি উদ্যোগের কথা সামনে আনেন তিনি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “হোয়াইট হাউস যে মন্তব্য করেছে, তার জন্য তাদের কাছেই প্রশ্ন তুলুন।” একপ্রকার কৌশলীভাবে ভারত কোনও সরাসরি মত দেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এধরনের আন্তর্জাতিক পুরস্কার সংক্রান্ত ইস্যুতে বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে। একদিকে তারা আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে তারা কোনও বিতর্কেও জড়াতে চায় না।
জয়সওয়ালের মতে, “আমাদের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দিক থেকেও আমরা কাছাকাছি।” তিনি আরও বলেন, এই সম্পর্ক বহু চ্যালেঞ্জ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, “ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক সময়-পরীক্ষিত ও স্থিতিশীল। আমরা যে কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ি তা তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে, কোনও তৃতীয় দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়।”
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিতরণ করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। প্রতি বছর বহু মনোনয়ন জমা পড়ে, যার মধ্যে থেকে কঠোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। শুধুমাত্র দাবি করলেই পুরস্কার পাওয়া যায় না।
হ্যাঁ, উদাহরণস্বরূপ:
বারাক ওবামা (২০০৯)
জিমি কার্টার (২০০২, পরবর্তীতে)
তবে প্রতিবারই বিতর্ক ছিল তাদের “যোগ্যতা” নিয়ে।
ট্রাম্প বিরোধীরা বলছেন, তিনি নিজে যুদ্ধ উসকে দিয়েছেন— বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া, ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে ইজরায়েলপন্থী অবস্থান নেওয়া— এসব তাঁর শান্তিপ্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের পক্ষে সরব হলেও, ডেমোক্র্যাটরা এই দাবিকে একপ্রকার “রাজনৈতিক প্রচার” বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁরা বলেন, ট্রাম্প বরং আমেরিকায় ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ ট্রাম্পকে ‘শান্তির দূত’ বলছেন, আবার কেউ বলছেন, “নোবেল প্রহসনের দিকে এগোচ্ছে”।
ভারতের অবস্থান নিঃসন্দেহে কূটনৈতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ। আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত মৈত্রীর পথ ধরে চলতে গিয়ে, এই বিতর্কে সরাসরি কোনও পক্ষ না নেওয়াই ভারতের নীতিগত সিদ্ধান্ত।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের প্রচারের অংশ। নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি তুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থানকে তুলে ধরার কৌশল মাত্র।
শান্তি পুরস্কার নিয়ে বরাবরই বিতর্ক থেকে গিয়েছে। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও সেই বিতর্ক আরও জোরালো। তবে ভারত তার কৌশলগত স্থিতাবস্থায় অটল থেকেছে— এটা স্পষ্ট। এখন সময় বলবে, এই দাবি কতটা বাস্তবায়িত হয়।
#Trump #NobelPeacePrize #IndiaUSrelations #RanadhirJaiswal #CarolineLeavitt


0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news