📍স্থান: তমলুক - কলকাতা - দিল্লি
📅 প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৫
🟥 প্রেক্ষাপট ও সূচনা
২৬ জুলাই ২০২৫ | তমলুক, পশ্চিম মেদিনীপুর
বিহারে SIR (Special Intensive Revision) অর্থাৎ বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এবার সেই বিতর্ক ছড়াল পশ্চিমবঙ্গেও। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শনিবার তমলুকে সাংবাদিক সম্মেলনে এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, বাংলায় SIR চালু হলে কমপক্ষে ১ কোটি ২৫ লক্ষ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলমানের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে।
🟥 শুভেন্দুর বক্তব্যের সারাংশ
শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য –
“বিহারে যদি ৫০ লক্ষ ভোটার বাদ পড়ে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি ২৫ লক্ষ। এঁদের বেশিরভাগই অবৈধ বাংলাদেশি মুসলমান ও রোহিঙ্গা।”
তিনি আরও বলেন,
“গত ৫-৬ বছরে ফেসবুক মারফত বাংলাদেশি মেয়েদের সঙ্গে পরিচয় করে বিয়ে হয়েছে। কেউ ভিসা করে এসে থেকে গেছে, আবার কেউ বিনা ভিসাতেই এখানে স্থায়ী হয়েছে। এখন তারা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাচ্ছে। এটা ভারতীয়ত্বের অপমান।”
🟥 বিহারে SIR-এর প্রেক্ষাপট
বিহারে সম্প্রতি হওয়া SIR-এ প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিক, ভুয়ো ডকুমেন্টধারী ও একই নামে একাধিক ভোটার শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া জানা গেছে, ৪০৩ জন BLO-এর বিরুদ্ধে FIR হয়েছে এবং ৫৩ জন গ্রেফতার হয়েছেন। শুভেন্দুর দাবি,
“এই একই মডেল বাংলায় কার্যকর হলে আসল ভোটার চিত্র সামনে আসবে।”
🟥 ডোমিসাইল বিতর্ক
শুভেন্দুর অভিযোগ,
“আইপ্যাক-এর সহায়তায় ৮টি সীমান্তবর্তী জেলায় ৭৫ হাজার বাংলাদেশি মুসলমানকে ফর্ম নম্বর ৬ দেওয়া হয়েছে। তারা ভারতীয় ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার প্রশাসনকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আজ থেকেই যদি কোনও BLO বা সরকারি অফিসার ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
🟥 কী এই ফর্ম-৬ ও তার গুরুত্ব
ফর্ম-৬ হল ভারতের নির্বাচন কমিশনের একটি অফিসিয়াল ফর্ম, যার মাধ্যমে নতুন ভোটার তালিকায় নাম তোলা যায়। শুভেন্দুর দাবি, এই ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতে বৈধ ভোটার হয়ে উঠছে। এতে দেশের নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
🟥 প্রশাসনকে সরাসরি সতর্কবার্তা
শুভেন্দু বলেন –
“বিডিও, এসডিওদের জানিয়ে দিচ্ছি, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটে সহায়তা করলে চাকরি থাকবে না। এই কাজের ফল ভুগতে হবে আদালতে, প্রশাসনিক স্তরে।”
🟥 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই মন্তব্য আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতে এই বিবৃতি বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।
🟥 আইনি দিক ও বিতর্ক
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোন আইনে SIR চালু হয়?
এই সমীক্ষা কেন্দ্র সরকারের নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত হলেও রাজ্য প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এটি কার্যকর হয় না। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের দ্বন্দ্ব এখানে তীব্র হতে পারে।
🟥 ভোটার তালিকায় বিদেশি অনুপ্রবেশ?
বিভিন্ন সংগঠনের মতে, বাংলাদেশ থেকে আসা বহু নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে চোরাপথে বাংলায় ঢুকেছেন। এরপর তারা নাম, পরিচয় পাল্টে আধার, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড বানিয়ে ফেলেছেন। শুভেন্দু সেই যুক্তিই তুলে ধরছেন, তবে প্রমাণ কোথায়?
🟥 রোহিঙ্গা ইস্যু
রোহিঙ্গারা মূলত মায়ানমার থেকে বিতাড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠী। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, বহু রোহিঙ্গা এখন বাংলায় আশ্রয় নিয়ে মমতা সরকারের নীরব আশীর্বাদে ভোটার হয়েছেন।
🟥 ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বলছে,
“শুভেন্দু এই ইস্যু তুলছেন শুধুমাত্র ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটাতে, যাতে ভোটে সুবিধা হয়। এ ধরনের ভাষ্য ভোটের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে।”
তবে বিজেপি বলছে,
“এটা নিরাপত্তার প্রশ্ন, হিন্দু-মুসলিম নয়।”
🟥 প্রশাসনিক নীরবতা
এই অভিযোগের পর এখনো পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা মুখ্যসচিব কেউ কিছু বলেননি। প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি সত্যিই এতজন বাংলাদেশি নাগরিক ভোটার তালিকায় রয়েছেন? কোনও সরকারি তথ্য নেই, কিন্তু রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে।
🟥 ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সালে। তার আগে বিজেপি যদি এই ইস্যুকে বড় করে তুলে, তবে সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া—এইসব জেলাগুলিতে তা প্রভাব ফেলবে।
🟥 তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া কি হবে?
তৃণমূল কংগ্রেসের এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে আশা করা যায় তারা এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করবে। পূর্বে দলনেত্রী বলেছিলেন—
“বাংলার মানুষ কারা, তা বিজেপিকে ঠিক করতে হবে না।”
🟥 উপসংহার ও বিশ্লেষণ
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বাংলায় SIR চালু হলে সত্যিই কতজন ভোটার বাদ পড়বে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু এই দাবির মাধ্যমে ভোটার পরিচয়, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় রাজনীতি—এই চারটি ইস্যু নতুন করে সামনে চলে এলো।
%20(1).webp)

0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news