Russia Ukraine War: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ কি শেষের পথে? — পুতিনের কোর্টে বল ঠেলে শান্তি আলোচনায় আগ্রহী জ়েলেনস্কি!
📘 ভূমিকাঃ শান্তির বার্তা, না কৌশলগত চাল?
২০২৫ সালের জুলাই মাসে এসে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অতিক্রম করল ১১৭৭ দিন। এই দীর্ঘতম যুদ্ধ, যা ইউরোপকে নাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে প্রথমবার বড় মঞ্চে ফের আলোচনার প্রস্তাব দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব পুতিনকে জানানো হয়েছে, যা কূটনৈতিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
📘 আলোচনার প্রেক্ষাপট
যুদ্ধের শুরু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, যখন পুতিন জাতির উদ্দেশে যুদ্ধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনে আঘাত হানে রাশিয়া। ডনবাস, ক্রিমিয়া, ওদেসা অঞ্চলজুড়ে আগ্রাসন চলে। এরপর বহু আলোচনা হলেও শান্তি স্থাপন সম্ভব হয়নি।
📘 গত মাসের স্থগিত আলোচনা
২০২৫ সালের জুনে এক দফা শান্তি আলোচনা হয়েছিল দু’দেশের মধ্যে। মূলত বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতির আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল সেই বৈঠক। কিন্তু কোনো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়নি। সূত্র বলছে, সেই আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষ ছিল অনমনীয়, তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দখল বজায় রাখতে চায়।
📘 এবার কোন পথে ইউক্রেন?
জ়েলেনস্কি এবার জানালেন, ইউক্রেন প্রস্তুত নেতৃত্ব পর্যায়ে আলোচনায় বসতে। তার কথায়, “প্রয়োজনে আমি নিজে বসব পুতিনের সঙ্গে। শান্তি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।” এই কথায় একদিকে যেমন দৃঢ় সংকল্প, অন্যদিকে এক ধরণের চাপ সৃষ্টির কৌশলও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
📘 রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া কী?
রাশিয়া অবশ্য জানিয়েছে, তারা আলোচনায় বসতে রাজি — তবে নিজেদের শর্তে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, তৃতীয় কোনও দেশের চাপ বা ট্রাম্পের সময়সীমা রাশিয়া মানবে না।
📘 ট্রাম্পের ভূমিকা ও হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি ফের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়ছেন, জানিয়ে দিয়েছেন: “৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ না থামালে রাশিয়ার বাণিজ্যিক বন্ধুদের উপর ১০০% শুল্ক চাপানো হবে।” এই বক্তব্য রাশিয়ার জন্য চাপ বাড়ালেও, পুতিন জানিয়েছেন, “আমরা কেবল আমাদের শর্তেই চলব।”
📘 কেন এই মুহূর্তে আলোচনা?
তিন বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনীতি শ্লথ, ইউক্রেনের পরিকাঠামো প্রায় ধ্বংস। যুদ্ধক্ষেত্রে নাটকীয় বদল ঘটছে না। তার উপর পশ্চিমী জোটের আর্থিক সহায়তাও কমেছে। এই পরিস্থিতিতেই আলোচনার দরজা খুলতে চায় কিয়েভ।
📘 পুতিনের চাপে চীন ও ভারতের কূটনীতি
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করার বার্তা দিয়ে এসেছে একাধিকবার। ভারতও জাতিসংঘে বারবার “ডায়ালগ ও শান্তি”-র পক্ষে সওয়াল করেছে। পুতিন বুঝতে পারছেন, দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়বেন না তো?
📘 বন্দি বিনিময় ও মানবিক ইস্যু
গত আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যুদ্ধবন্দিদের বিনিময়। ৮০০ ইউক্রেনীয় ও ৭০০ রুশ সেনা বিনিময়ের জন্য প্রস্তুতি ছিল। এই বিষয়টি মানবিকতার ক্ষেত্রে শান্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
📘 জ়েলেনস্কির বার্তা বিশ্বকে
“আমি যুদ্ধ চাই না,”—এই বার্তা দিয়ে জ়েলেনস্কি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটা স্নিগ্ধ বার্তা দিয়েছেন। এতে পশ্চিমাদের কাছে ইউক্রেনের অবস্থান আরও নৈতিক বলে প্রতিপন্ন হবে, যা সামরিক ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
📘 রুশ জনমতের পরিবর্তন?
যুদ্ধের দীর্ঘতায় সাধারণ রাশিয়ান নাগরিকদের মধ্যেও বিরক্তি তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিন ভয় পাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা না করলে দেশীয় চাপ বৃদ্ধি পাবে। এই পরিস্থিতিতেও আলোচনা এক প্রকার রাজনৈতিক চাপ লাঘবের কৌশল।
📘 ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রূপরেখা
➤ যুদ্ধবিরতি — অস্থায়ী হলেও হতে পারে
➤ যুদ্ধবন্দি বিনিময় — মানবিক স্তরে অগ্রগতি
➤ সাময়িক যুদ্ধবিরতি — পরবর্তী রাজনৈতিক চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে
📘 বিশ্বে প্রতিক্রিয়া
ন্যাটো দেশগুলি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন বলেছে, “কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ।” চীন ও ভারতের প্রতিক্রিয়াও নিরপেক্ষ, তবে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
📘 ইউক্রেনের স্বার্থ বনাম অঞ্চল দখল
সমস্যার মূল— ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দখল, বিশেষত ডোনেৎস্ক ও লুহান্স্ক। রাশিয়া চায় এই অঞ্চল স্বীকৃত হোক। ইউক্রেন সেটা মানতে রাজি নয়। আলোচনায় তাই বড় চ্যালেঞ্জ এই ভূখণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য।
📘 উপসংহার—আলোচনা হবে, সমাধান?
যুদ্ধ শেষ হবে কি? না কি এটা কেবল এক কূটনৈতিক বিরতি? জ়েলেনস্কির প্রস্তাবে বল এখন পুতিনের কোর্টে। পরবর্তী সপ্তাহে যদি আলোচনায় বসে দুই পক্ষ, তবে হয়ত বিশ্ব প্রথম আলোর রেখা দেখতে পাবে এক দীর্ঘ ও রক্তাক্ত অন্ধকারের শেষে।


0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news