📰 President Murmu Is Coming To Bengal: রাষ্ট্রপতি মুর্মুর বঙ্গ সফর ২০২৫, কালীমন্দিরে আরতি, AIIMS সমাবর্তন ও কড়া নিরাপত্তা
সূচনাপর্ব – রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফরের তাৎপর্য
দ্রৌপদী মুর্মু দেশের প্রথম আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতি। তাঁর পশ্চিমবঙ্গ সফর রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। এবারের সফর শুধুমাত্র সরকারি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়—এটি যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ত দিক থেকেও।
সফরসূচি – সময়ভিত্তিক এক নজরে
রাষ্ট্রপতির সফরসূচি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট:
-
৩০ জুলাই, দুপুর ১২:৫০: কলকাতা বিমানবন্দরে আগমন
-
১:২০ PM: কল্যাণী বিএসএফ হেলিপ্যাডে অবতরণ
-
২:০০ PM: বিএসএফ অফিসার্স মেসে মধ্যাহ্নভোজ
-
৩:৩০ PM: কল্যাণী AIIMS সমাবর্তনে প্রধান অতিথি
-
৫:১৫ PM: দক্ষিণেশ্বরে আরতি ও পুজো
-
রাত: রাজভবনে রাত্রিযাপন
-
৩১ জুলাই, সকাল ৯:২০–৯:৫০: বৈঠক
-
সকাল ১০:০০: দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা
কল্যাণী AIIMS: স্বাস্থ্য শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়
কল্যাণী AIIMS পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত। রাষ্ট্রপতির আগমনে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। সমাবর্তনে তিনি দেশের চিকিৎসাবিদ্যার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বক্তব্য রাখবেন।
ধর্মীয় সফর – দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে রাষ্ট্রপতি
দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে রাষ্ট্রপতির আগমন ধর্মীয় অনুরাগের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। মন্দিরে তিনি কালীমায় পুজো ও সন্ধ্যারতি দর্শন করবেন। এই সফর ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি রক্ষার বার্তা বহন করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা – তিনস্তরীয় প্রস্তুতি
রাষ্ট্রপতি সফর উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর, কলকাতা ও কল্যাণীতে তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। NSG, BSF, রাজ্য পুলিশ ও বিমানবাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দক্ষিণেশ্বরে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় থাকছে মহিলা বাহিনীও।
রাজনৈতিক বার্তা – তৃণমূল ও বিজেপির অবস্থান
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সফরকে "রাজনৈতিক সৌজন্য" হিসেবে দেখা হলেও, বিজেপি এটিকে "আদিবাসী সম্মান প্রদর্শন" হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। রাষ্ট্রপতির সফর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
জনগণের প্রতিক্রিয়া – উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ
কল্যাণী ও দক্ষিণেশ্বরের স্থানীয় বাসিন্দারা রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। অনেকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে এই সফরকে ঘিরে ইতিবাচক আলোচনা ছড়িয়েছে।
AIIMS-এর ছাত্রদের চোখে রাষ্ট্রপতি
চিকিৎসা পড়ুয়াদের মতে, একাধারে আদিবাসী নারী ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। শিক্ষাঙ্গনে এমন ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি গর্বের বিষয়।
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ঐতিহ্য ও রাষ্ট্রপতি
রামকৃষ্ণ পরমহংসের তপোবৃক্ষ এই দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে আগেও একাধিক রাষ্ট্রপতি এসেছেন, তবে দ্রৌপদী মুর্মুর সফর ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে স্থান পাবে। মন্দির কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিশেষ পূজার সামগ্রী উপহার দেবেন।
রাজভবনের প্রস্তুতি
রাষ্ট্রপতির রাত্রিযাপনের জন্য রাজভবনে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যের প্রাথমিক সহায়তা, খাবার ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজভবনে তাঁর বৈঠকে থাকতে পারেন রাজ্যপাল ও মুখ্যসচিব।
প্রশাসনিক বৈঠক – সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়
৩১ জুলাই সকালের বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী সুরক্ষা, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও জনজাতি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
বঙ্গ সফরের সামাজিক বার্তা
দ্রৌপদী মুর্মুর সফর কেবল রাষ্ট্রীয় দায় নয়, বরং সামাজিক মিলনের একটি বার্তা। ধর্মীয় সম্প্রীতি, শিক্ষা ও জনগণের সাথে সংযোগ—এই তিন স্তম্ভে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাঁর সফর।
মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রপতির এই সফরকে “Symbol of Unity & Diversity” হিসেবে বর্ণনা করছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল সরাসরি কভারেজ দেবে। সামাজিক মাধ্যমে #PresidentInBengal ট্রেন্ডিং হচ্ছে।
আগত বছরগুলির দৃষ্টান্ত
রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সফরের তুলনায় মুর্মুর সফর অনেক বেশি ধর্মীয় এবং জনসম্পৃক্ত। আগত বছরে তিনি আরও কয়েকটি রাজ্যে ধর্মীয় স্থান ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন বলে সূত্র জানায়।
উপসংহার – রাষ্ট্রপতির সফর এক নতুন যুগের সূচনা
দ্রৌপদী মুর্মুর এই সফর পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। শিক্ষা, ধর্মীয় আস্থা, জনজাতি প্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্রীয় সৌজন্যের এক ব্যতিক্রমী মেলবন্ধন ঘটতে চলেছে এই সফরে।
.webp)

0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news