Jagdeep Dhankhar Resigned: হঠাৎ ইস্তফা! উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জগদীপ ধনখড়, পিছনে কী আছে আসল কারণ?
ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবল ধাক্কা — ধনখড়ের ইস্তফা
২১ জুলাই, ২০২৫, সন্ধ্যা ছ’টা। হঠাৎই দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। খবরটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে। কেউ ভাবতেই পারেনি এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তিনি লিখেছেন, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই পদক্ষেপ।
রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠি — আবেগে ভরা বিদায়বার্তা
ধনখড় তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, “আমি সংবিধানের ৬৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। স্বাস্থ্যই এখন মূল অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা এবং সকল সংসদ সদস্যদের প্রতি আমি চিরঋণী।”
সম্প্রতি কী ঘটেছিল ধনখড়ের সঙ্গে?
গত মাসে উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর মঞ্চ থেকে নেমে অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। সেই ঘটনা অনেককেই চিন্তায় ফেলে দেয়। চিকিৎসা শেষে সাময়িকভাবে সুস্থ হলেও শরীর ঠিক আগের মতো ছিল না বলেই ধারণা।
চিকিৎসকরা কী বলছেন?
ধনখড়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, তাঁর রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, এবং স্নায়বিক সমস্যা সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মক আকার নিয়েছে। নিউরোলজিস্টদের পরামর্শ ছিল তাঁকে যেন সক্রিয় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়।
ভারতীয় সংবিধানে ৬৭(ক) ধারা কী বলে?
ভারতের সংবিধানের ৬৭(ক) ধারা অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি নিজে ইচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে পত্র প্রেরণ করে। ধনখড় সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করেছেন।
উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব — কতটা চাপের?
উপরাষ্ট্রপতি শুধু দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নয়, তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিদিন বিভিন্ন সাংসদদের সঙ্গে মতবিনিময়, অধিবেশনের তদারকি—সবই চরম মানসিক চাপের।
ধনখড়ের রাজনৈতিক জীবন — এক ঝলকে
-
১৯৮৯: ঝুনঝুনু থেকে লোকসভায় জয়
-
১৯৯০: সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
-
১৯৯৩–১৯৯৮: রাজস্থান বিধানসভার বিধায়ক
-
২০১৯–২০২২: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল
-
২০২২–২০২৫: উপরাষ্ট্রপতি
বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক
রাজ্যপাল হিসেবে ধনখড়ের পশ্চিমবঙ্গ অধ্যায় ছিল বিশেষ আলোচিত। তৃণমূল সরকারের সঙ্গে বারবার সংঘাত, নানা বিতর্ক ও মতপার্থক্য তাঁকে সংবাদমাধ্যমে বারবার তুলে এনেছে। স্পষ্টভাষী এই রাজনীতিক সর্বদা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
ধনখড়ের পদত্যাগ ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি অসাধারণ দক্ষতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন। তাঁর শারীরিক সুস্থতা কামনা করি।” এই বক্তব্যে পরিস্ফুট তাঁর অবদানের স্বীকৃতি।
রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ কী ধনখড়ের?
অনেকে মনে করছেন, ধনখড় রাজনৈতিক জীবন থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে কয়েকজন বিজেপি নেতার মতে, তিনি হয়তো দলের অভ্যন্তরীণ পরামর্শদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি ধনখড় নিজে।
নয়া উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন — কী নিয়ম?
উপরাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা তৈরি হলে, ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে — কে হবেন পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি?
সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা?
একাধিক নাম উঠে আসছে:
-
এল. মুরুগন (বর্তমান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী)
-
স্মৃতি ইরানি (সংসদে দৃঢ় উপস্থিতি)
-
সুধা মূর্তি (সম্ভাব্য চমক হিসেবে)
তবে বিজেপি এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনখড়ের ইস্তফা ভারতীয় রাজনীতির এক নতুন মোড়। তাঁর অভাব রাজ্যসভায় প্রভাব ফেলবে। তিনি নিয়ম-শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী ছিলেন। ভবিষ্যতে তাঁর মতো দক্ষ চেয়ারম্যান পাওয়া কঠিন।
জনগণের প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় ধনখড়ের হঠাৎ ইস্তফায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, 'দায়িত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত', কেউ আবার বলছেন 'রাজনৈতিক চাপের ফল'। হ্যাশট্যাগ #JagdeepDhankhar ট্রেন্ড করছে একাধিক প্ল্যাটফর্মে।
শেষ কথা — রাজনীতির মাঠে এক অধ্যায়ের অবসান
জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তির সরে দাঁড়ানো নয়, এটি একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। তাঁর অভিজ্ঞতা, কণ্ঠস্বর ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা ভারতীয় গণতন্ত্রের স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে। দেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আরো জানতে নজর রাখুন আমাদের পেজে।



0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news