India and Pakistan conflict: ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ পাকিস্তানের, রাষ্ট্রসংঘে সভাপতিত্ব ও কাশ্মীর ইস্যুতে!
ভূমিকা
২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সভাপতিত্ব পেয়েছে পাকিস্তান। আর সেই পদ পাওয়ার পরপরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হওয়া নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদের বক্তব্য ঘিরে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের অস্থায়ী সদস্যপদ ও সভাপতিত্ব
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে নির্বাচিত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১৫ সদস্যের মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী ও দশটি অস্থায়ী সদস্য দেশ এক মাস করে ঘুরিয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। জুলাই মাসে সেই দায়িত্ব পাকিস্তানের হাতে আসে। রাষ্ট্রসংঘের এই সংবিধানগত কর্তব্য নিয়েই পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য
রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরে এক ভাষণে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, “কাশ্মীর ইস্যুতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। শুধু পাকিস্তানের দায়িত্ব নয়, এই দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্যের।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে কাশ্মীরের সমস্যাটি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের ইস্যু।
দ্বিপাক্ষিক থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তোলার চেষ্টা
ভারত বহু বছর ধরে বলে আসছে যে কাশ্মীর একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এটি একমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। কিন্তু পাকিস্তান বরাবরই কাশ্মীর সমস্যাকে আন্তর্জাতিক করে তুলতে চায়। এবার রাষ্ট্রসংঘে সভাপতির আসনকে ব্যবহার করে তাদের সেই প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হল।
পহেলগাঁও হামলা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নিহত হন। তদন্তে উঠে আসে, হামলাকারীরা পাকিস্তানের মদতে প্রশিক্ষিত। তার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালু করে ও পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে জঙ্গি ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের এক সীমান্ত সংঘর্ষ ঘটে।
ভারতের জবাব – সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত
কাশ্মীর জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে ভারত তার ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে। ১৯৬০ সালের এই চুক্তির আওতায় ভারত ও পাকিস্তান সিন্ধু ও তার শাখানদীগুলির জল বণ্টন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু জঙ্গি কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় ভারত এই চুক্তি আপাতত বন্ধ রেখেছে।
শিমলা চুক্তি বাতিল – পাকিস্তানের কৌশল
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও চুক্তিভঙ্গ করে। ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তির আওতায় উভয় দেশ পারস্পরিক মতবিরোধ দ্বিপাক্ষিকভাবে মেটানোর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল। কিন্তু এখন পাকিস্তান নিজেই সেই চুক্তি ভঙ্গ করে কাশ্মীর ইস্যুকে রাষ্ট্রসংঘে তুলতে মরিয়া।
ইতিহাস পুনরাবৃত্তি – একই পুরনো অভিযোগ
পাকিস্তান আগেও বহুবার কাশ্মীর নিয়ে UN-এ অভিযোগ এনেছে, কিন্তু প্রতিবারই ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতায় তারা পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি। এবারের প্রচেষ্টাও তারই পুনরাবৃত্তি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের অবস্থান – অভ্যন্তরীণ বিষয়
ভারত বরাবর বলেছে যে কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো বহিরাগত পক্ষ এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ভারতীয় প্রতিনিধিরা জাতিসংঘে তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।
আমেরিকা ও রাশিয়ার অবস্থান
রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র আমেরিকা ও রাশিয়া – দু’দেশই ভারতের ঘনিষ্ঠ। তারা এতদিন পাকিস্তানের এই দাবিকে সমর্থন করেনি। এবারও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে পাকিস্তানকে বেগ পেতে হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে সভাপতি হতেই নিজেদের দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে। এটা মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের একটা চেষ্টা।
ভারতীয় প্রতিক্রিয়া
ভারত সরকারের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পাকিস্তানের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
পাকিস্তানের এমন কূটনৈতিক কৌশল কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে কোনও বাস্তব ফল আনবে না। বরং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।
জনমত ও মিডিয়া প্রতিক্রিয়া
ভারতে মিডিয়া জুড়ে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা চলছে। “UN-এ চেয়ার পেলেই এত দম্ভ কেন?” – এমন প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিশ্লেষক ও নাগরিক। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সমালোচনার ঝড়।
উপসংহার
রাষ্ট্রসংঘের অস্থায়ী সভাপতির আসনকে ব্যবহার করে পাকিস্তান যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে, তা সুস্থ আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিপন্থী। ভারতের পক্ষ থেকে এই ষড়যন্ত্রের জবাব কূটনৈতিকভাবে দেওয়া হবে বলেই আশা করা যায়।
একটা বিষয় নিশ্চয়ই স্পষ্ট – কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে, এবং থাকবে।


0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news