IIM Joka Case: “কলকাতা জোকা IIM হস্টেল কাণ্ড, লাঞ্চের পর বেহুঁশ করে ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড়”
ঘটনাটির প্রাথমিক বিবরণ
কলকাতা শহরের শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র জোকা IIM-এর ছাত্রাবাসে ঘটে গেল এক নিন্দনীয় ঘটনা। অভিযোগ, এক তরুণীকে কাউন্সেলিংয়ের নাম করে ডেকে এনে খাইয়ে বেহুঁশ করে ধর্ষণ করেন IIM-এরই দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় পড়ে গেছে গোটা শহরজুড়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশি বিবরণ ও এফআইআর
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারিণী তরুণী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তাঁকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকেন, এবং লাঞ্চের সময় খাবার ও জল দেন। সেই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তারপরেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
গ্রেফতার ও হেফাজতের আদেশ
এফআইআরের ভিত্তিতে হরিদেবপুর থানার পুলিশ রাত ১২টা ১৫ মিনিটে অভিযুক্ত ছাত্রকে তাঁর হস্টেলের ঘর থেকে গ্রেফতার করে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করেছে। আদালত অভিযুক্তকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ভিকটিমের বাবার দাবি ঘিরে বিতর্ক
তরুণীর বাবার মন্তব্য এই মামলাকে ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। তিনি দাবি করেছেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে কেউ কোনও খারাপ ব্যবহার করেনি। ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেনি।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি ফোন কলে তিনি জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে অটো থেকে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়েছে এবং এসএসকেএম হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট বিভাগে ভর্তি হয়েছে।
তরুণীর বক্তব্য ও পরিস্থিতির অস্পষ্টতা
তরুণীর বাবার দাবি অনুযায়ী, তাঁর মেয়ে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয় এবং স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভিকটিম নিজেই লিখিত অভিযোগে ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়েছেন। এই দ্বন্দ্বই এখন তদন্তের মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হস্টেলের নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রশ্নের মুখে
একটি দেশের সেরা ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট হিসেবে IIM-এর হস্টেলে এমন নিরাপত্তাহীন পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। হস্টেল গেট পাস, ভিতরের সিসিটিভি নজরদারি, বহিরাগতদের প্রবেশ ইত্যাদি বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ছাত্র সংগঠন ও প্রতিবাদ
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ খুলেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, “অভিযুক্তের পরিচয় যাই হোক, তদন্ত হোক স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ। এবং ভিকটিমের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।”
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক মতামত। কেউ বলছেন ভিকটিমের বাবার দাবি খণ্ডন করছে মেয়ের অভিযোগকে, আবার কেউ বলছেন এটা ভিকটিম শেমিং-এর একটি নতুন রূপ। ট্রেন্ডিং হয়েছে #JusticeForVictim।
আইনি দিক ও শাস্তিযোগ্য ধারা
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া বিষক্রিয়া বা বেহুঁশ করার উদ্দেশ্য নিয়ে খাদ্যদ্রব্য মেশানোর অভিযোগে ৩২৮ ধারাও প্রয়োগ হয়েছে। পুলিশ বলছে, “মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে চার্জশিট গঠিত হবে।”
মেডিকেল রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষা
তরুণীর মেডিকেল টেস্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। SSKM হাসপাতালের ডাক্তারদের মতে, রিপোর্ট এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে আসেনি। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, মেডিকেল রিপোর্টের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে মামলার ভবিষ্যৎ গতি।
IIM কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
IIM জোকা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, “ঘটনার পূর্ণ তদন্তে পুলিশকে আমরা সহায়তা করছি। অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নারীর নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।” যদিও বহু ছাত্র দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক প্রভাব
পুরো ঘটনায় হস্টেলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক ছাত্রী হস্টেল ছাড়ার কথা ভাবছেন। কলেজ প্রশাসনের তরফে কাউন্সেলিং সেশন চালু করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী ঘটনার পুনরাবৃত্তি?
এই ঘটনা কসবা ল' কলেজে সদ্য ঘটে যাওয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক নারীনিগ্রহের ঘটনা। এটি কি শহরের আইনি ও সামাজিক পরিকাঠামোর ওপর প্রশ্ন তুলছে না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শুধু আইন নয়, মানসিকতা বদলাতে হবে।”
মিডিয়ার ভূমিকা ও জনচেতনা
গোটা ঘটনায় মিডিয়া যে গতিতে খবর প্রকাশ করেছে তা একদিকে যেমন তথ্য দিচ্ছে, অন্যদিকে তরুণীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ভিকটিমের পরিচয় সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা বাধ্যতামূলক।”
উপসংহার ও সমাজের দায়িত্ব
ঘটনার সত্যতা যাচাই করা এখন তদন্তকারী সংস্থার কাজ। তবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বদল অত্যন্ত জরুরি। আইআইএম, কসবা কিংবা অন্য যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান— নারী যেন নিরাপদ বোধ করে, সেটাই হওয়া উচিত আমাদের মূল চেতনা।
📌 পরিশেষে:
এখন সময় কঠিন প্রশ্ন তোলার— উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান কি শুধু পড়াশোনার কেন্দ্র নাকি সুরক্ষা ও মর্যাদার অভাবেরও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে? সমাজ কি সত্যিই নারীর জন্য নিরাপদ?
%20(1).webp)

0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news