Civic Volunteer Fake Lottery: সিভিক ভলান্টিয়ারের ঘরে জাল লটারি চক্র! উত্তাল চিতর কমলাই, গ্রেফতার ৪
ঘটনার হেডলাইন ও সারসংক্ষেপ
উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার চিতর কমলাই গ্রামে রীতিমতো বলিউড সিনেমার মতো চিত্র! এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল জাল লটারি চক্রের আস্ত কারখানা। ঘরে ছিল একাধিক কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার এবং সফটওয়্যার। সন্দেহজনক যাতায়াতের খবর পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। ধৃত চারজন। এলাকায় চাঞ্চল্য।
অভিযুক্তের পরিচয় ও পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম অরূপ সরকার। পেশায় তিনি পুলিশের সঙ্গে যুক্ত একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। চিতর কমলাই এলাকাতেই তাঁর বাড়ি। স্বভাবতই একজন সরকারিভাবে নিযুক্ত ব্যক্তি এমন জালিয়াতিতে যুক্ত থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
কেমন ছিল অরূপের বাড়ি, কীভাবে চলছিল অপারেশন
অরূপের বাড়ির একতলায় ছিল একটি বন্ধ ঘর। সেই ঘরে দিনে-রাতে চলত কম্পিউটার চালিত লটারি প্রিন্টিং। দরজায় তালা থাকলেও ভিতরে চলত অবৈধ 'প্রোডাকশন'। কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ছাড়াও পাওয়া গেছে নকল লটারি টিকিট, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের নথি এবং ম্যানুয়াল।
এলাকা বাসীর সন্দেহ ও প্রতিক্রিয়া
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে অরূপের বাড়িতে অচেনা লোকজনের যাতায়াত দেখে সন্দেহ জাগে। বাইরের গাড়ি, মোটরবাইক এসে ঢুকত, কিছুক্ষণ থাকত, তারপর চলে যেত। মফস্বল এলাকায় এমনটা সহজেই নজরে আসে। কিছু স্থানীয় যুবক বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশের অভিযান ও গ্রেফতার
ইটাহার থানার পুলিশ রাতের অন্ধকারে হানা দেয় অরূপ সরকারের বাড়িতে। উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। অভিযানে ধরা পড়ে চারজন — অরূপ সরকার সহ আরও তিনজন। একাধিক যন্ত্রপাতি ও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ধৃতদের জবানবন্দি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
ধৃতদের মধ্যে একজন দাবি করেছে, সে শুধুমাত্র “কি হচ্ছে দেখতে এসেছিল”, কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, তার মোবাইল এবং পকেট থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক লটারি কুপন ও নম্বরের তালিকা। এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলেই মনে করছে পুলিশ।
লটারি কারবারের পেছনে বড় চক্রের আশঙ্কা
একজন সিভিক ভলান্টিয়ার একা এত বড় কারবার চালাতে পারেন না — এমনটাই মনে করছে স্থানীয়রাও। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি নাম। সম্ভবত রাজ্যের বাইরে থেকেও কেউ এই চক্রে যুক্ত।
অরূপের চাকরি কীভাবে? প্রশ্ন উঠছে নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে
যে ব্যক্তি নিজেই জাল লটারি চক্র চালায়, সে কীভাবে পুলিশের অন্তর্ভুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার হতে পারে? তার নিয়োগ কি বৈধভাবে হয়েছিল? এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ছিল কি? তদন্তে উঠে আসছে নতুন দিক।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
চিতর কমলাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসন নিরব ছিল। একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। তাহলে কি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রেখেছিল? এসব প্রশ্ন এখন প্রশাসনের উদ্দেশে ছোঁড়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, নতুন মডেল সামনে
পুলিশ জানিয়েছে, অরূপ এবং তার দল ইন্টারনেট নির্ভর সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভুয়ো লটারি তৈরি করত। কিছু নামী লটারির নামে তৈরি হতো নকল টিকিট। গ্রামবাসীদের প্রতারণা করে নেওয়া হতো টাকা।
এলাকার রাজনৈতিক চিত্র ও অরূপের প্রভাব
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরূপ সরকার কোনও এক স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। এর ফলে পুলিশ বা প্রশাসনের অনেকেই আগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পেতেন বলে গুঞ্জন। তবে এই মুহূর্তে সব দলই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।
আর্থিক প্রতারণার পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ
আনুমানিকভাবে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের বক্তব্য, ‘জিতলে লাখ টাকা পাবেন’ বলে বহু টাকা নেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে নামছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও STF
জালিয়াতি বড় আকারের হওয়ায় এবার তদন্তে যুক্ত হচ্ছে সাইবার সেলের দল এবং স্টেট টাস্ক ফোর্স (STF)। উদ্ধার হওয়া কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই তদন্তে আরও বহু তথ্য সামনে আসবে বলেই অনুমান।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা বার্তা
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই ধরনের অপরাধীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা চুড়ান্ত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।” পুলিশ সাধারণ মানুষকে এই ধরণের ‘লটারি ফাঁদ’ থেকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর একটাই দাবি — দোষীদের যেন এমন শাস্তি দেওয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করতে সাহস না পায়। সিভিক ভলান্টিয়ারের মতো একজন সরকারিভুক্ত ব্যক্তি যদি এমন কাজে যুক্ত থাকে, তবে জনগণের বিশ্বাসই ভেঙে পড়ে।
শেষ মন্তব্য:
চিতর কমলাইয়ের এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, প্রযুক্তির অপব্যবহার কিভাবে সাধারণ মানুষের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং গভীর তদন্ত ছাড়া এই ধরনের অপরাধ থামানো সম্ভব নয়।
চলমান তদন্তের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা জেলা।
.webp)

0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news