Casba Victim Father: কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে নির্যাতিতার পিতার গর্জন — ‘সর্বোচ্চ সাজা চাই, দরকারে মৃত্যুদণ্ড হোক’

Indiatonight.in



Casba Victim Father: কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে নির্যাতিতার পিতার গর্জন — ‘সর্বোচ্চ সাজা চাই, দরকারে মৃত্যুদণ্ড হোক’


 — এক ভয়াবহ রাতের নির্মমতা

কলকাতার সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে যে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, তাতে গোটা শহর শিউরে উঠেছে। এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ, নির্যাতনের পর বিচার এবং প্রতিকার চাওয়ার মর্মস্পর্শী আবেদন জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা।
তাঁর ভাষায়, "সর্বোচ্চ সাজা যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, দোষীদের তাই হোক। সমাজ জানুক, বিচারব্যবস্থা কী করতে পারে।" এই একবাক্য যেন সমস্ত বেদনা, ক্ষোভ আর জ্বলন্ত বিচারপ্রবণতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


 ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ল’ কলেজে। অভিযোগ, এক প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে কলেজ প্রাঙ্গণেই ধর্ষণ করে তিনজন যুবক।
মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র, যিনি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতা টিএমসিপির ইউনিট সেক্রেটারি। অন্য দুই অভিযুক্ত জইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায় কলেজের বর্তমান ছাত্র।


মনোজিৎ মিশ্র — রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও অতীত ইতিহাস

মনোজিৎ সম্পর্কে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য।

  • সে আলিপুর আদালতে প্র্যাক্টিস করে।

  • কলেজ জীবনে তার বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে।

  • এক ছাত্রীর অভিযোগ, দুই বছর আগে কলেজ ট্রিপে সে তাঁকে হেনস্থা করে এবং হুমকিও দেয়।
    এমনকি অন্তত ১৫ জন ছাত্রী মনোজিতের বিকৃত আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।


 নির্যাতিতার বাবার অবস্থান

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতার বাবা বলেন—

"সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। মৃত্যুদণ্ডই যদি সেটা হয়, হোক। মানসিক বিকারগ্রস্তদের জন্য উদাহরণ তৈরি হোক।"
তাঁর ভাষায়, মেয়ের মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। সে আতঙ্কিত, অসহায়। তবে তাঁরা এখনো কলকাতা পুলিশের উপর আস্থা রাখছেন।


 তদন্তের অগ্রগতি ও কলকাতা পুলিশের ভূমিকা

নির্যাতিতার পরিবারের মতে,

  • কলকাতা পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।

  • তদন্ত প্রক্রিয়া তৎপরতার সঙ্গে এগোচ্ছে।

  • এই মুহূর্তে সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেই তাঁদের মত।


 কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে।

  • কেন আগেই মনোজিতের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা?

  • এত অভিযোগ সত্ত্বেও কেন তার রাজনীতি ও আইনচর্চা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল?


রাজনীতি বনাম ন্যায়বিচার

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন রাজনৈতিক কর্মী, তাও শাসক দলের যুব শাখার নেতা — ফলে ন্যায়বিচারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের ভূমিকা কিছুটা স্বস্তির জায়গায়, তবে চাপ রয়ে গেছে।


 নির্যাতিতার মানসিক পুনর্বাসনের সংকট

মেয়েটি বর্তমানে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তাঁর চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, ও ভবিষ্যতের জন্য নানামুখী সাহায্য দরকার।
রাজ্য সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের কথা ঘোষণা করেনি।


সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও জনমত

সামাজিক মাধ্যমে জনতার ক্ষোভ উথলে উঠেছে।

  • #JusticeForKasbaGirl ট্রেন্ড করছে টুইটারে।

  • নানা মহিলা সংগঠন, আইনজীবী মহল দ্রুত বিচার ও কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে।


 অতীতের দৃষ্টান্ত — ধর্ষণ ও মৃত্যুদণ্ড

ভারতের আইনে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাবিত।

  • নির্ভয়া কাণ্ডে চারজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

  • কসবাকাণ্ডও সমাজের সামনে এক নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি।


নারীদের নিরাপত্তা — শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অনিরাপদ?

এই ঘটনা আরও একবার প্রশ্ন তোলে—

  • কলেজেও কি ছাত্রীরা নিরাপদ নয়?

  • রাজনীতির ছত্রছায়ায় অপরাধীরা কতটা সাহস পায়?


 গণধর্ষণের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অপরাধ মানসিক বিকারগ্রস্ততার প্রকাশ।
সমাজে নৈতিকতার চরম অবক্ষয়, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিকৃতি এর মূল কারণ।


 মিডিয়ার ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ

মিডিয়া দ্রুত ঘটনাটি সামনে আনলেও, নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখা দরকার।
ভুল তথ্য বা sensationalism এইরকম ঘটনায় আরো ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।


 এখন কী করণীয় — প্রশাসনিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

  • দ্রুত চার্জশিট, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার।

  • অভিযুক্তের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকলে সেটি অপসারণ।

  • কলেজে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন, মনিটরিং ব্যবস্থা উন্নত করা।


উপসংহার — ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় এক বাবা, এক সমাজ

নির্যাতিতার পিতা কেবল তাঁর মেয়ের জন্য নয়, সমস্ত সমাজের জন্য এই ন্যায়বিচার চান।
এই রকম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই ভবিষ্যতের অপরাধ রোধ করতে পারে।
সতর্কতা, শাস্তি ও মানসিক সচেতনতা — এই তিনের সংমিশ্রণেই রোধ করা সম্ভব নারীর প্রতি সহিংসতা।


                                                         Download Now



       আরো জানতে নজর রাখুন আমাদের পেজে।


0 মন্তব্যসমূহ