BJP State president election: সুকান্তর পরিবর্তে নতুন মুখ? উত্তাল গেরুয়া শিবির

Indiatonight.in



BJP State president election: সুকান্তর পরিবর্তে নতুন মুখ? উত্তাল গেরুয়া শিবির


📰  ভূমিকা ও পটভূমি

২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রস্তুতি। তৃণমূল যেখানে সংগঠন চাঙ্গা করতে ময়দানে, বিজেপি-ও পিছিয়ে নেই। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে — এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে সুকান্ত মজুমদারের পরিবর্তে নতুন মুখ আসতে পারে বলেই এখন প্রবল সম্ভাবনা।


📰  কী ঘটতে চলেছে ৩ জুলাই?

আগামী ৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচন হতে চলেছে। বিজেপির অভ্যন্তরে সূত্র বলছে, এই দিনই নাম ঘোষণা করে দেওয়া হবে নতুন সভাপতির। ২ জুলাই মনোনয়ন, তার পরদিনই ফলাফল — এমনটাই পরিকল্পনা।


📰  কেন বদল দরকার মনে করছে বিজেপি?

সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে দল কতটা সফল, সেই নিয়ে অনেকদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে আরও জোরালো হয়েছে সেই আলোচনা। ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির ভিত্তিতে সুকান্তকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।


📰  রবিশঙ্কর প্রসাদকে বিশেষ দায়িত্ব

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গে রবিশঙ্কর প্রসাদকে পাঠিয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকি করতে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর বাংলায় এসে মনোনয়ন জমা নেওয়া থেকে শুরু করে সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্বে থাকবেন।


📰  সভাপতি নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পরিষদেও রদবদল

শুধু রাজ্য সভাপতি নির্বাচন নয়, বাংলার জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচনও করবেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের সদস্যদের নিয়েই ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়।


📰  সম্ভাব্য নাম — কারা কারা দৌড়ে?

তিনটি নাম উঠে এসেছে সামনে—

  1. শমীক ভট্টাচার্য (রাজ্যসভার সাংসদ)

  2. অগ্নিমিত্রা পাল (বিধায়ক ও মহিলা মোর্চার প্রাক্তন নেত্রী)

  3. জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো (লোকসভার সাংসদ, পুরুলিয়া)


📰  কেন শমীক ভট্টাচার্য এগিয়ে?

সম্প্রতি জেপি নড্ডার বাড়িতে আমন্ত্রিত হন শমীক ভট্টাচার্য। রবিশঙ্কর প্রসাদও সেখানে ছিলেন। দিল্লির অন্দরমহলে ঘনিষ্ঠতা, সাংসদ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা, এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য অনেকেই মনে করছেন শমীকই হবেন পরবর্তী সভাপতি।


📰  অগ্নিমিত্রা পাল ও জ্যোতির্ময় মাহাতোর অবস্থান

অগ্নিমিত্রা পাল মূলত কলকাতা কেন্দ্রীক নেতা। মহিলা ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়। কিন্তু তাঁর সীমিত সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সমস্যা হতে পারে।
জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো যদিও পুরুলিয়া থেকে নির্বাচিত, কিন্তু দলের মধ্যে অতটা দাপট নেই।


📰  সুকান্ত মজুমদারের প্রতিক্রিয়া

সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “আমি কেন্দ্রের নির্দেশে দায়িত্ব পেয়েছিলাম, এখন যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁকেই সাহায্য করব।” তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট কূটনৈতিক, কিন্তু এর মধ্যেই স্পষ্ট, তিনি বুঝে গিয়েছেন — তাঁর সময় শেষ।


📰  দলীয় কর্মীদের প্রতিক্রিয়া

জেলা স্তরের কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, নতুন মুখ এলে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা আসবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, “নেতা বদলে সংগঠন বদলায় না, তৃণমূল স্তরে কাজ না করলে কিছু হবে না।”


📰  বিজেপির সংগঠন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

এই পদক্ষেপ বিজেপির সাংগঠনিক ঢেলে সাজানোরই অংশ। রাজ্যে বুথ স্তরে দল দুর্বল হয়ে পড়েছে। নতুন সভাপতি সেই দুর্বলতাকে কাটিয়ে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারবেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।


📰  তৃণমূল ও বামফ্রন্টের প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল নেতারা বলছেন, “বিজেপি নিজেদের ঘরই সামলাতে পারছে না, ওদের দিয়ে রাজনীতি হবে না।”
বামফ্রন্ট নেতারা বলছেন, “একজন ফেইল্ড সভাপতি বাদ দিয়ে আর একজনকে এনে কী হবে? গাঁয়ের ভিতরে বিজেপির হদিস নেই।”


📰  জাতীয় সভাপতির নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি

১৯টি রাজ্যে নতুন সভাপতি নিযুক্ত হলেই জাতীয় সভাপতি নির্বাচন শুরু হবে। বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ৩৭ রাজ্যের মধ্যে অন্তত ১৯টিতে সভাপতি নিয়োগ হলেই সেই প্রক্রিয়া সম্ভব। এই মাসেই সেই লক্ষ্য ছুঁতে চাইছে দল।


📰  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধুই সাংগঠনিক নয়, ২০২৬-এ নির্বাচনের মুখ দেখেই করা হচ্ছে। বিজেপি চাইছে — সংগঠন আর নেতৃত্বে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে।


📰  উপসংহার

৩ জুলাই বৃহস্পতিবার নতুন নাম ঘোষণা হলে রাজ্য বিজেপিতে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। শমীক ভট্টাচার্য বা অন্য কেউ — যেই আসুন, তাঁকে সামনে রেখে দলকে মাঠে নামতে হবে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে কেমন ফল করে গেরুয়া বাহিনী, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই সিদ্ধান্তের উপর।


                                                         Download Now




এই ঘটনাপ্রবাহের পরবর্তী আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন।

0 মন্তব্যসমূহ