Sandeshkhali News: সন্দেশখালির নারকীয় কাণ্ড: মেয়ের বান্ধবীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক
ভূমিকা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
দক্ষিণ কলকাতার ল’ কলেজে ছাত্রীর উপর যৌন নিগ্রহের ঘটনার রেশ কাটেনি। এর মধ্যেই সন্দেশখালিতে ঘটে গেল আরও এক ভয়াবহ নৃশংসতা। ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে তারই বান্ধবীর বাবা। বর্তমানে নাবালিকা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সময় ও স্থান
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে। রবিবার বিকেলে গ্রামের এক নির্জন এলাকায় এই কাণ্ড ঘটে।
ধর্ষণের ধরণ ও পদ্ধতি
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। মেয়েটিকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করত।
কীভাবে ফাঁস হয় ঘটনা
সেদিন কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চলছিল। ঠিক সেই সময় পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন স্থানীয় মহিলা নাবালিকার কান্না শুনতে পান এবং দ্রুত ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
অভিযুক্তের পরিচয় ও পালানোর কৌশল
অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার সময়ই পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আইএসএফ সমর্থক এবং বেশ প্রভাবশালী। তার ছবি ও তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে।
ভিকটিমের পারিবারিক অবস্থা
নাবালিকার মা ও বাবা কর্মসূত্রে অন্য জায়গায় থাকেন। সে মামার বাড়িতে থাকত। এই বিচ্ছিন্নতা সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে অভিযুক্ত।
ন্যাজাট থানার ভূমিকা
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকাইত জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে জোর তল্লাশি চলছে।
আগে থেকেও ছিল অভিযোগ
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগেও মেয়েটির সঙ্গে এমন কুকর্ম করেছে। তবে প্রতিবার ভয় দেখিয়ে চুপ করানো হত। পুলিশ সেই তথ্যও খতিয়ে দেখছে।
গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া
গ্রামবাসীরা একযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন সকলে। কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ে বারবার বাঁচছিল অভিযুক্ত।
রাজনীতির যোগসাজশ?
স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার জন্য বারবার আইনি রক্ষাকবচ পাচ্ছিল। তদন্তে এই দিকটাও উঠে আসছে।
মনোবৈজ্ঞানিক প্রভাব
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন নির্যাতনের ফলে ভিকটিমের ওপর চরম মানসিক প্রভাব পড়তে পারে। তার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন।
সমাজে নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন
এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠছে—মেয়েরা কি সত্যিই নিরাপদ? নিজের বন্ধু পরিবারের কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করলে, কোথায় নিরাপত্তা?
আইনি দৃষ্টিকোণ
আইন অনুযায়ী, এই ঘটনা পকসো অ্যাক্টের আওতায় পড়ে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার দাবি উঠেছে।
প্রশাসনের জবাবদিহি
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে প্রশ্ন থাকছে, কীভাবে এই ঘটনা এতদিন চাপা ছিল? নজরদারির ঘাটতি কেন?
উপসংহার ও সমাজের ভূমিকা
এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, সমাজেরও জাগরুক হওয়া প্রয়োজন। শিশুরা যাতে ভয় না পায়, পরিবারকে যেন সব কথা জানাতে পারে—সেই পরিবেশ তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।


0 মন্তব্যসমূহ
welcome to India tonight news